সাবাড় লাখ টাকার গাছ

পতেঙ্গায় অন্যের জমি দখল করতে রাতের আঁধারে গাছ কেটে নিল ‘ভারটেক্স গ্রুপ’

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৬ মার্চ, ২০২১ শনিবার ০২:০০ পিএম

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার কাঠগড় এলাকায় রাতের আঁধারে জমি দখল নিতে স্থানীয় এক ব্যক্তির ১২টির অধিক গাছ কেটে সাবাড় করেছে বেসরকারি ডিপো ভারটেক্স অফ-ডক লজিস্টিক সার্ভিসেস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, গাছ কাটার শব্দ পেয়ে জমির মালিক গিয়ে বাঁধা দিলে তাকেও প্রাণ নাশের হুমকি দেয়া হয়।— এমন ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি পতেঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ রাত দুইটার দিকে গাছ কাটার শব্দ পেয়ে ঘর থেকে বের হন ভুক্তভোগী তসলিম। নিজের জায়গার গাছ কাটার কারণ জানতে চেয়ে বাঁধা দিলে কর্তৃপক্ষ তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় এবং চলে যায়। এসময় ওই ভুক্তভোগীর এক ডজনেরও অধিক মেহেগনি গাছ এবং নারিকেল গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলে তারা।

এ ঘটনায় ভারটেক্স ডিপোর এমডি ইমরান ফাহিম নূরকে বিবাদী করে পতেঙ্গা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার উত্তর পতেঙ্গা পূর্ব কাটগড় মো. আব্দুল ওয়াদুদের পুত্র মো. মাসুদ চৌধুরী তসলিম (৪৪)।

সূত্র বলছে, গত ২৫ বছর ধরে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করে আসছে ভারটেক্স অফ-ডক লজিস্টিক সার্ভিসেস লিমিটেড। বাড়তি হ্যান্ডলিং ক্ষমতার জন্য জায়গার প্রয়োজনে স্থানীয়দের বাড়ি-ঘর ও কৃষি জমি দখলে নিতে চায় এই কোম্পানি। এছাড়া আদালতে বিচারাধীন জায়গায় তারা নির্মাণ করেছে ২৫ ফুট উচ্চতার সীমানা প্রাচীর।

গত ১৭ জানুয়ারি জমি দখলকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়ায় মো. আব্দুল ওয়াদুদের মালিকানাধীন জায়গায় ১৪৫ ধারা জারি করেছে চট্টগ্রাম মহানগরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ আইন অনুযায়ী ওই জায়গার স্বত্ব বা মালিকানা কেউ দাবি করতে পারবেন না।

শব্দ দূষণেরও কারণ

রাতের ঘুমকে হারাম করে দেয় এই ডিপোর কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের শব্দ। দিন দিন এ নিয়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। বাচ্চারা ঠিকমতো পরীক্ষার সময় পড়াশোনাও করতে পারেনা তাদের শব্দ দূষণের ফলে।—রয়েছে এমন অভিযোগও।

ইয়াছিন নামে এক চাকরিজীবী বলেন, ‘সারাদিন অফিস শেষে রাতে খাওয়া-দাওয়া সেড়ে একটু প্রশান্তির ঘুম কে না চায়? আর সেই ঘুম টুকুও কেড়ে নেয় ওই ডিপোর কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের শব্দ।’

জলাদ্ধতা সৃষ্টি

এছাড়াও ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভারটেক্স কনটেইনার ডিপোর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টির অভিযোগ করে আসছে এলাকাবাসী।

রতন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, কাটগড় এলাকায় ভারটেক্স লজিস্টিকস লিমিটেড প্রায় ২০ কানি জমির ওপর তাদের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। চারদিকে সীমানা প্রাচীর গড়ে তোলায় কারখানার ভেতরে আদৌ পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা আছে কিনা তাও দৃশ্যমান নয়। ডিপোর ভেতর যে ড্রেন আছে তাও নামমাত্র।

তিনি বলেন, ‘ভারটেক্স কর্তৃপক্ষ প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে মামলা-হামলার শিকার হতে হবে বলে হুমকি দেয়।’

প্রতি বর্ষা মৌসুমেই হাঁটু পানিতে সয়লাব হয়ে যায় ওই এলাকা। ড্রেন সম্প্রসারণের জন্য তাদের কোন সহযোগিতা পাওয়া যায়না। ভারটেক্স কর্তৃপক্ষ পানি নিষ্কাশনের জন্য বিন্দুমাত্র জায়গাও ছাড় দেয়না। সামনের বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়ে আতঙ্কগ্রস্থ তারা।

এবিষয়ে জানতে ভারটেক্স অফ-ডক লজিস্টিক সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ইমরান ফাহিম নূরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তা অপেক্ষারত পাওয়া যায়।

এরপর মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে কল করা হলে তা রিসিভ করে ইমরান ফাহিম নূরের সেক্রেটারি মিজান পরিচয়ে একজন বলেন, ‘স্যার আজকে একটু ফ্যামিলির সাথে আছেন। একচুয়্যালি তাই ওনার কাছেও যেতে পারছিনা। ফ্যামিলি মিটিংয়ে আছেন আর কি।’

তিনি বলেন, ‘অনেকেই ফোন করছে, যার কারণে ওয়েটিংয়ে ছিল। স্যারের ইন্সট্রাকশন ছাড়া ফোন ধরতে তো পারিনা। তাই আপনার ফোন দেখেও ধরব কি ধরবোনা বুঝতেছিলাম না।’

পতেঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জোবায়ের সৈয়দ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ধরণের একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

চট্টগ্রাম প্রতিদিন এর নিউজ অবলম্বনে

আরএইচ/সিএস

Print This Post