স্ত্রী তালাক দেয়ায় আত্মহত্যা করল স্বামী

আপডেট: ২ মার্চ ২০২১ ৭:২২ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২ মার্চ, ২০২১ মঙ্গলবার ০৭:০০ পিএম

আড়াই বছর আগে পারিবারিক লভানে আলমগীরের বিয়ে হয় জেরিন আকতারের সঙ্গে। ভালোই কাটছিল তাদের দাম্পত্য জীবন। এরই মধ্যে বিদেশ চলে যান আলমগীর। কিন্তু করোনা প্রকোপের কারণে দেশে চলে আসেন গত বছরের জুন মাসে। এরপরই বেকার স্বামীকে আর সহ্য হচ্ছিল না জেরিনের। বাপের বাড়ি গিয়ে স্বেচ্ছায় ডিভোর্স লেটারও পাঠান ডাকযোগে। কিন্তু স্ত্রীকে কোনভাবেই ছাড়তে নারাজ ছিলেন আলমগীর। শেষ পর্যন্ত স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে না পেরে আত্মহননের পথ বেঁছে নেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গহিরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. আলমগীর (২৫) ওই এলাকার জুহুরুল ইসলাম প্রকাশ বিল্লাল মিয়ার পুত্র।

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুবাই থেকে দেশে ফিরে বেকার হয়ে পড়েন আলমগীর। এরপর থেকে তার স্ত্রী তাকে পছন্দ করছেন না জানিয়ে বারবার ডিবোর্সের কথা জানিয়েছিল। মুখদিয়ে স্বামীকে তালাক দেওয়ার কথা বের করায় পুনরায় আকদ হয়। এরপর গত তিনমাস আগে স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যায়। কাবিনের টাকা দাবি না করেই স্বেচ্ছায় ডিভোর্স দেন। ডাকযোগে ডিভোর্স লেটার পেয়ে মেয়ে পক্ষের দেওয়া আসবাবপত্র পাঠিয়ে দেন আলমগীরের পরিবার। কিন্তু আলমগীর তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার পক্ষে ছিলেন না। স্ত্রীকে বারবার ঘরে ফেরার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় অভিমানে নিজেই ফাঁসিতে ঝুলে পড়েন তিনি।

নিহত আলমগীরের মা ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘বউ যেহেতু কাবিনের টাকা দাবি ছাড়া স্বেচ্ছায় ডিভোর্স দিয়েছে সেখানে আমাদের করণীয় কিছুই থাকে না। আমরা বলেছিলাম তাকে আবার বিয়ে করাবো। স্ত্রীর প্রতি এত ভালোবাসা ছিল বলার বাইরে। শেষ পর্যন্ত বউ বউ করে আমর ছেলেটাই মরে গেল।’

রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার খবর শুনে আমি নিজেই সেখানে গিয়েছি। মৃত্যুর রহস্য ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে জানা যাবে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

 

Print This Post Print This Post