ভাল্লুকের আক্রমণে আহত শিশুসহ দুজনকে হেলিকপ্টারে আনা হল চট্টগ্রাম

আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ৮:০০ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ শুক্রবার ০৭:৫০ পিএম

বান্দরবান জেলার দুর্গম চিম্বুকপাড়া এলাকায় বন্য ভালুকের আক্রমণে গুরুতর আহত শিশু মঙ্গোলীও মুরং (৬) ও ইয়াং ওয়াই মুরংকে (৪৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহায়তায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে তাদের প্রথমে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়।

এরপর তাদের চমেক হাসপাতালের ২৮ নম্বর নিউরোসার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

শিশুটি চিম্বুক পাড়া জঙ্গলের পাশে খেলাধুলা করছিল।হঠাৎ একটি হিংস্র ভালুক আক্রমণ করে তাকে। ভালুকের আক্রমণ থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে শিশুটির দাদা ইয়ং ওয়াই মুরং (৪৮)।

ভালুকটি দুজনকেই মারাত্মকভাবে আহত করে। পরবর্তীতে আহত দুজনকে বান্দরবান রিজিয়নের আওতায় কাছের সেনাক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।

চট্টগ্রাম সেনানিবাসের জিওসি, ২৪ পদাতিক ডিভিশন তৎক্ষণাৎ আহত দুজনকে যেকোনো ভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। এরপর বেলা আড়াইটার দিকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয় তাদের।

আহত মঙ্গোলীও মুরংয়ের বাবা রিং রাং রাও মুরং (৩২) বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর মানবিক কর্মকাণ্ডে পাহাড়ের দুর্গম জনপদের মানুষগুলো নতুনভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। তারা যেই গ্রামে বসবাস করেন, সেখান থেকে সড়কে যেতে হলে টানা ৫ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে যেতে হয়। নেই কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ঝিরি-ঝরনা, খাল ও গিরিপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় তাদের। জীবিকার তাগিদে ওই পাহাড়ি জনপদে বসবাস করছেন তারা।

এর আগেও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও বিজিবির যৌথ প্রচেষ্টায় গত ৩১ এপ্রিল সোনাপতি চাকমা এবং ২৯ ডিসেম্বর জতনী তঞ্চংগ্যা নামে দুইজন মৃত্যুপথযাত্রী উপজাতি প্রসূতি নারীকে হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। পরে তারা ফুটফুটে বাচ্চা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। বেঁচে যায় ২ নবজাতক ও মায়েদের জীবন।

সিএস

Print This Post Print This Post