খানাখন্দে বেহাল ছনুয়ার কাদেরিয়া সড়ক, উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এক যুগেও

আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ১০:১৭ অপরাহ্ন

রবিউল হোসেন রবি | আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ বুধবার ০৯:১০ পিএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি, ছনুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার লাখো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম যে সড়ক, সেই সড়ক দেখলে আঁতকে উঠবে যে কেউ! গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে মানুষের হাঁটাচলাও। এলাকার জনপ্রতিনিধির নেই যেন কোন মাথাব্যথা। ফলে সংস্কারের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই সড়কে।— বলছি ছনুয়া ইউনিয়নের কাদেরিয়া সড়কের কথা।

খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। বিশেষ করে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ী ও হাসপাতালে রোগীদের আনা নেওয়ার ক্ষেত্রে। কারণ সড়কটি এখন নিজেই রোগী! বিকল্প সড়ক না থাকাতে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহনও। সর্বশেষ সড়কটি ২০০৬ সালে এলজিইডির অর্থায়নে সংস্কার করা হয়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুঁইছড়ি-ছনুয়া স্টিল ব্রিজ থেকে শুরু করে মনুমিয়াজী বাজার পর্যন্ত সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ইট একটিও নেই জায়গামতো। সব ইট আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে স্থানীয় ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। তাছাড়া সড়কটি রাজাখালী আরবশাহ বাজার থেকে মনুমিয়াজী বাজার যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। বিকল্প সড়ক না থাকাতে ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা নেওয়ার ক্ষেত্রেও পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

সড়কের সব ইট রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে
সড়কের সব ইট রয়েছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে

অপরদিকে ছেলবন এলাকায় চিংড়ি ঘেরের গর্ভেও বিলীন হয়ে যাচ্ছে এই সড়ক। স্লুইচগেইট দিয়ে অতিরিক্ত পানি ঢুকিয়ে এ সড়কের ক্ষতিসাধন করা হয় প্রতি বর্ষা মৌসুমে। দক্ষিণা বাতাসে চিংড়ি ঘেরের পানির ঢেউ ধাক্কা দেয় রাস্তায়। ফলে রাস্তার মাটিও ঝরে যাচ্ছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ! বাজারে যাওয়া অন্যান্য কাজে এ সড়কে যাতায়াতের সময় চিংড়ি ঘেরের পানির ঢেউয়ে তাদের গায়ে পানি ছিটকে পড়ে।

বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে এলাকাবাসীর মাঝে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে এই সড়ক ঘিরে। তাঁদের দাবি, বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হোক।

এ বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. মোস্তফা সিটিজিসানকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করি। অনেক সময় আছাড় খেয়ে কাঁদামাখা ইউনিফর্মে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে এই রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমের আগে সংস্কারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

ছনুয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, ‘মনুমিয়াজী বাজারের দক্ষিণে ছোট ছনুয়া যাওয়ার রাস্তাটারও করুণ দশা। বলতে গেলে পুরো দক্ষিণ ছনুয়ার রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা। বর্তমান চেয়ারম্যান হারুন সাহেব রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছেন, তবে তা ওনার নিজ গ্রাম খুদুকখালীতে।’

আবু হানিফের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেল স্বয়ং চেয়ারম্যানের বক্তব্যে। গত ৩১ জানুয়ারি দক্ষিণ ছনুয়া মছন ফকির বাড়ি সমাজ কল্যাণ পরিষদের মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে চেয়ারম্যান এম.হারুনুর রশিদ দক্ষিণ ছনুয়ায় উন্নয়ন না করার বিষয়টি নিজেই স্বীকার করেছেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জানেন এ রাস্তাটা (কাদেরিয়া সড়ক) আমি ২-৩ বার মাপাই গেছি। এখনো রাস্তাটা টেন্ডার করতে পারিনি। দোয়া করবেন ২-৩ মাসের মধ্যে টেন্ডারে নিয়ে যাবো। অনেকে অনেক কিছু বলবে। এরকম ফেসবুকের রাজনীতি আমি করি না। অনেকে বলবে, আমি করতেছি। অমুক করতেছি, সমুখ করতেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি কি করছি, না করছি, আপনারা হয়তো জানেন। এদিকে (দক্ষিণ ছনুয়া) কাজ কম অইছে, আমার খুদুকখালীর এদিকে কাজ বেশি হয়ছে। কারণ একটা কথা বলে, আগে মসজিদে চেরাগ, তারপর ঘরে চেরাগ দিয়ে বাইরে চেরাগ দেয়। মিথ্যা বলার কোন দরকার নাই। এখানে অতীতে চেয়ারম্যান ছিল ১৪ বছর।’

এদিকে চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদের এমন বক্তব্যকে ঘিরে ছনুয়ার জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ছনুয়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল কালাম নামের এক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে বক্তব্য দিতে পারেন না। চেয়ারম্যান ওনার বক্তব্য বলেছেন— ওনার খুদুকখালীতে কাজ বেশি হয়েছে। শুধু খুদুকখালীটা ওনার এলাকা হবে কেন?’

‘পুরো ছনুয়ার মানুষ ওনাকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান বানাইছে। কিন্তু খুদুকখালীকে আলাদা করে দেখাটা দুঃখজনক।’ —যোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানার জন্য ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত একটি নম্বরে কল করা হলে সংযোগ পাওয়া যায়নি এবং অপরটিতে একাধিকবার কল করলেও তার পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরএইচআর/সিএস

Print This Post Print This Post