চিঠি দিলেও ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ

পতেঙ্গায় বিদ্যুতের সাব-স্টেশনের সামনে সড়ক দখল করে ঝুপড়ি দোকান

রবিউল হোসেন রবি | আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ মঙ্গলবার ১১:৪০ এএম

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (কেইপিজেড) গেইটের ঠিক বিপরীতে রয়েছে হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন ১৩২/৩৩/১১ কেভি গ্রীডের সাব-স্টেশন। এ উপকেন্দ্রটির সীমানা প্রাচীরের সামনে রয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। আর সেই খুঁটির ওপরে রয়েছে উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন ক্যাবল। আর সেই ক্যাবলের নিচেই সারিবদ্ধভাবে ছাউনি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে চা, পান, সিগারেটের দোকান ও দুরপাল্লার বাস কাউন্টার। বৈদ্যুতিক এ সাব-স্টেশন ঘিরে দোকানের জঞ্জালের কারণে সেখানে যেকোনো মুহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে পতেঙ্গা থানার স্টিলমিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাব-স্টেশনের সামনেই অসংখ্য মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলেই প্রায় ১৫ টি অবৈধ দোকানঘর নিয়ে গড়ে উঠেছে জমজমাট ব্যবসা। দোকানঘরগুলো মূল সড়কের সংযুক্ত হওয়ায় এবং দোকান ঘেঁষেই বাস স্টপেজ হওয়ায় সেখানে সবসময়ই ৮/১০টি করে রিকশা ও মোটরসাইকেল সড়কের উপর অবস্থান করে থাকে।

যার ফলে কেইপিজেড গেইট থেকে গার্মেন্টসের বাসগুলো বের হতে গেলেই প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। আর সড়ক দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা পথচারি, চাকুরিজীবী,  শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসিসহ সকলকেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এছাড়া দোকানগুলোর সামনে বেঞ্চ বসানো থাকায় সবসময় লোকজন সেখানে বসে চা-পান খায় এবং আড্ডা দেয়। নগরের ব্যস্ততম মোড়ে সড়কের সাথে এ রকম ঝুপড়ি দোকান কোনো অবস্থাতেই থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এসব দোকানগুলোর জন্য সাব-স্টেশনের সিসি ক্যামেরাও থেকে যায় আড়ালে। এ ছাড়াও দোকানটি গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকায় অজানা-অচেনা লোকজনের আনাগোনা থাকে, যা সাব-স্টেশনের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার প্রতিবেদককে বলেন, ‘ঝুঁকি রয়েছে জানি। কিন্তু কি করব? দোকান বসানো যায় বলেই দোকানদারি করছি। আর কিছু বলতে পারব না।’

কারা এসব দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে তা জানতে চাইলে কেউই মুখ খুলতে রাজি হননি।

স্থানীয়রা জানান, কিছু প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা ও প্রশাসনের লোকের সহযোগিতায় এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবৈধ দোকান বসিয়েছে সেখানে। ইতোপূর্বে চায়ের দোকান হতে আগুনের সূত্রপাত হয়ে সাব-স্টেশনের ক্যাবলেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। যার ফলে সাব-স্টেশনের একটি ব্রেকারও নষ্ট হয়ে যায়। ওই সময় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে প্রায় ১৫-১৬ ঘন্টা সময় লেগেছিলো।

২০২০ সালের ৪ মার্চ এ বিষয়টি জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বরাবর চিঠি দিয়েছিলেন হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন।

ওই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসক, প্রধান প্রকৌশলী, ডিজিএফআইয়ের পরিচালক, র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক, উপ-পুলিশ কমিশনার, এনএসআইয়ের উপ-পরিচালক, বিউবির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, পিজিসিবির হালিশহর ১৩২/৩৩/১১ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী, পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অত্র দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকেও।

চিঠিতে গিয়াস উদ্দিন বলেন, হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের আওতাধীন হালিশহর ১৩২/৩৩/১১ কেভি গ্রীড উপকেন্দ্রটি সরকারের একটি IA Category KPI ভূক্ত স্থাপনা। উক্ত স্থাপনার সামনে উচ্চ ভোল্টেজ সম্পন্ন ক্যাবল রয়েছে। উক্ত স্থানে অবৈধভানে ফুটপাত দখলের মাধ্যমে ও বিউবো’র সীমানা প্রাচীর ভেদ করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে ক্যাবলের ওপরেই চায়ের দোকানসহ কিছু দোকান গড়ে ওঠেছে। যা খুবই বিপদজনক। ইতিপূর্বে চায়ের দোকান হতে ক্যাবলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। উপকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য উক্ত অবৈধ দোকানঘর সমূহ জরুরী ভিত্তিতে উচ্ছেদ করা প্রয়োজন।

তিনি চিঠিতে আরও বলেন, বর্ণিত উপকেন্দ্র হতে দুই লাখ গ্রাহক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগসমূহ, বেপজা, বিমানবন্দরসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে উক্ত অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদের করার অনুরোধ জানান তিনি।

কিন্তু প্রায় এক বছর পার হতে চললেও এর কোনো সুরাহা মেলেনি অদ্যাবদি। উচ্ছেদের নাম-গন্ধ তো নেই তার ওপর যেন আরও ঘটাও করে চলছে অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করে দোকান বসানোর মহোৎসব।

হালিশহর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘এমন একটি জনবহুল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশনের সামনে দোকান, তাও আবার অবৈধ! যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা হলে এর দায় কে নিবে? এর আগেও এসব চা দোকান থেকে আগুন লেগে প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এবিষয়ে সংশ্লিষ্টদেরকে চিঠি পাঠিয়েও এসব অবৈধ দোকানঘর উচ্ছেদ করতে পারিনি। চিঠি দেয়ার প্রায় ১ বছর হতে চলল। কিন্তু কি কারণে এসব দোকানঘর উচ্ছেদ হচ্ছে না তা সংশ্লিষ্টরাই ভাল জানেন।’

এবিষয়ে পতেঙ্গা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহেসান মুরাদ সিটিজিসানকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি খোঁজ নিচ্ছি। এরপর যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসএ/সিএস

Print This Post