পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ আতঙ্ক

৪৮ বছরের পুরনো ভিটা থেকে উচ্ছেদ করতে চায় বন্দর, সড়কে এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ শনিবার ০৬:৩০ পিএম

৪৮ বছর ধরেই পতেঙ্গা থানার লালদিয়ার চর এলাকার নদীর চর ঘেঁষে বসবাস করে আসছে দুই হাজার ৩০০ পরিবার। সরকারের প্রয়োজনে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি ছেড়েই সেখানে বসবাস শুরু করেছিল তারা৷ কিন্তু ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সেই জায়গা থেকে পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সেজন্য আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে তাদের। আর এই উচ্ছেদের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে এবার লালদিয়ার চর বাসী।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে পতেঙ্গার বিমানবন্দর সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।

মানববনন্ধনে একাত্বতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর মো. ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী, সাবেক স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী আলমগীর হাসান, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রার্থী আওয়ামীগ নেতা মো. ফরিদুল আলম, মহানগর আওয়ামীলীগের সদস্য নোটারিয়ান মো. ইলিয়াস।

উচ্ছেদের আগেই ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয় জানিয়ে বক্তারা বলেন, ‘উচ্ছেদের এক সপ্তাহে আগে বিদ্যুৎ-পানি কেড়ে নেয়া কতটা যৌক্তিক? আমরা তো রোহিঙ্গা নয়। আমরা বাংলাদেশের জনগণ। তবুও আমাদের প্রতি কেন এ অবিচার?’

মানববন্ধনের শুরুতে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. ছালেহ আহম্মদ চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, ‘বিগত ৪৮ বছর আগে সরকারকে নিজেদের ভিটা মাটি ছেড়ে দিয়ে লালদিয়ার চর এলাকার প্রায় তেইশ শতাধিক পরিবার এখন নিঃস্ব। তাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা না করে তাদের এভাবে উঠিয়ে দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমান। সরকার যেখানে মিয়ারমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জায়গা দিয়ে ভবন নির্মাণ করে প্রধানমন্ত্রী যে মানবিকতার বর্হিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, এ চরবাসিকে সামন্য থাকার জায়গা ব্যবস্থা করে দিয়ে এ জনবসতিকে উচ্ছেদ করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন।’

তিনি বলেন, ‘চরবাসির লোকজন খুবই গরিব। উচ্ছেদ করলে ভাড়া বাসা যাওয়া মতো তাদের অধিকাংশ পরিবারের সামর্থ নেই। ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ না করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান তিনি। বিষয়টি না মেনে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে আসলে লালদিয়ার চরবাসিরা ওইদিন বিামনবন্দর সড়কে মাটিতে শুয়ে পড়বে।’

 

‘নদীর জন্য মন কাঁদে, মানুষের জন্য কেন নয়, লালদিয়ার চর পুর্নবাসন চাই’, ‘রোহিঙ্গা না হয়ে বাংলাদেশী হলাম বলেই কি পুনর্বাসন পাবো না?’, ‘পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদই কি মুজিববর্ষের উপহার?’— ইত্যাদি লেখা লিফলেট ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে এসময় শিশু থেকে বৃদ্ধ নারী ও পুরুষ দাঁড়িয়ে মানবন্ধনে অংশ নেয়।

এসময় সার্বিক নিরাপত্তা বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সাল থেকে লালদিয়ার এলাকায় বসবাস করে আসছেন প্রায় দুই হাজার ৩০০ পরিবার। সেখানে এ, বি ও সি ব্লকে বিভক্ত হয়ে গঠিত হয় লালদিয়ার চর।

২০০৫ সালের ১২ জুলাই লালদিয়ার চরের বি ব্লক থাকা প্রায় পাঁচশ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। ২০১৯ সালেও লালদিয়ার চর এ-ব্লকের কিছু অংশ উচ্ছেদ করার পরও নতুন করে চলতি বছরের আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি এ-ব্লক উচ্ছে করার জন্য নোটিশ দেয় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

রবিউল/এসএ/সিএস

Print This Post