গ্রেফতার এড়াতে ছদ্মবেশ ধরেন এসআই আকবর

সিএস ডেস্ক | আপডেট : ৯ নভেম্বর, ২০২০ সোমবার ০৫:১৫ পিএম

মুখভর্তি দাড়ি, গলায় পুঁতির মালা ও মাথার চুলের স্টাইল পরিবর্তন করে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করেন সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া।

গ্রেফতার এড়াতে খাসিয়াদের ছদ্মবেশ ধারণ করেন তিনি। কিন্তু ছদ্মবেশ ধারণ করেও গ্রেফতার এড়াতে পারেননি এসআই আকবর।

সোমবার (০৯ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার ডোনা সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে হাত-পা বেঁধে পুলিশে দেয়। পুলিশ বলছে, ডোনা সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় আকবরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রায়হান হত্যাকাণ্ডের ২৯ দিন পর গ্রেফতার সিলেটের আলোচিত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবরকে ধরার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

এতে দেখা যায়, কানাইঘাটের সীমান্ত এলাকার একটি জঙ্গলে স্থানীয় লোকজন সবুজ রঙের রশি দিয়ে আকবরের দুই হাত ও দুই পা বেঁধে রেখেছেন। এ সময় এক যুবককে বলতে শোনা যায় মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য নিরপরাধ একটা ছেলেকে মেরে ফেলেছে আকবর। তখন আকবর বলেন, আমি মারিনি ভাই। আমি তারে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। আমি পালাব না। আল্লাহর দোহাই লাগে আমারে বাঁধিয়েন না।

এর আগে সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক সাইফুল আলম তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এসআই আকবরকে সিলেটে আনা হচ্ছে। বিকেল ৫টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়।

রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে নগরীর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর, নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। এরপর মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

রায়হানের মরদেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাত লাঠি দিয়ে করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের ফলে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

২০ অক্টোবর রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকে ও ২৩ অক্টোবর কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে গ্রেফতারের পর পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ২৫ অক্টোবর কনস্টেবল টিটুকে ফের তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই।

ঘটনার দিন বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহী, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টুআইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এনও

Print This Post