মন্ত্রীরা যা বলেন তা করেন না, আর যেটা করেন সেটা বলেন না: রাণা দাশগুপ্ত

আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২০ ৩:৪৯ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৭ নভেম্বর, ২০২০ শনিবার ০৩:৪৫ পিএম

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। যদি সরকার দাবি মানতে রাজি না হয় তাহলে লংমার্চের মতো কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকারের মন্ত্রী ও নেতাকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। তারা যা বলেন তা করেন না, আর যেটা করেন সেটা বলেন না। বললেন।’

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড়ে আয়োজিত গণঅবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেকবার সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনার দলের ভেতর দল আছে। আপনার প্রশাসনে পাকিস্তান আছে। সরকার চালাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের সরকার আর তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় একাত্তরের পরাজিত শক্তি। আমার তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে সচেতন করতে চাই।’

লালমনিরহাট ও কুমিল্লায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে  আক্রমণ, অগ্নিসংযোগ, শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিলের প্রতিবাদে এবং জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবিতে চট্টগ্রামে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড় এলাকায় গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বেলা ১২টা পর্যন্ত গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পরিষদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গণঅবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।

পরে সেখানে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষীণ করে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। গণঅবস্থান কর্মসূচির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা নিউমার্কেট এলাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিলো

গণ অবস্থান কর্মসূচিতে  রানা দাশ গুপ্ত আরও বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাভূত করে বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় বাংলাদেশের পুন:প্রতিষ্ঠার যে লড়াই, সে লড়াইয়ে অবর্তীন হতে চাই।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, আমরা সব হামলার ঘটনায় বিচার চাই, তদন্ত চাই সব ঘটনার, দেশে সাম্প্রদায়িক হামলা অনতিবিলম্বে বন্ধ চাই।

তিনি বলেন, যারা সব ঘটনায় দায়ী তাদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে সরকার শাস্তি যেন নিশ্চিত করে।এটা আমরা প্রত্যাশা করি। ফেসবুকের ঘটনায় যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাদের মুক্তি দিয়ে, যারা ফেসবুক হ্যাকার তাদের চিহ্নিত করে তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

তিনি বলেন, আজকের সমাবেশ বলে দিচ্ছে যতোই হামলা নির্যাতন হোক তার প্রতিবাদে প্রতিরোধে আমরা মাঠে থাকবো। আমরা পালিয়ে যাব না। অন্যায় অত্যাচার যাই হোক ঐক্যবদ্ধভাবে রুঁখে দাঁড়াবো।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এই দেশের সংখ্যালঘুদের সমঅধিকার, সমমর্যাদার জন্য  তাদেরকে লড়াই করতে হবে। এটা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমরা ভাবি নাই। ধর্ম অবমাননার নামে যে হামলা চলছে তা যুদ্ধপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের আগে শুনেনি।

তিনি বলেন, রামু থেকে কুমিল্লার মুরাদনগর পর্যন্ত যে হামলার ঘটনা ঘটছে তাতে দেখা যাচ্ছে হামলার ঘটনা এক প্যাটানের।

পুলিশ এবং প্রশাসনের সামনেই সাম্প্রদায়িক শক্তি ধর্ষণ, নির্যাতন করে, ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। দুখের সঙ্গে বলতে চাই, কোনও রাজনৈতিক দলের এসব ঘটনার প্রতিবাদে কোন অবস্থান আমরা দেখিনি।- যোগ করেন রানা দাশগুপ্ত।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘু স্বার্থবান্ধব। সংখ্যালঘুরা শান্তিতে থাকুক এটা প্রধানমন্ত্রী চান। কিন্তু দলের ভেতরে কয়জন চায় ? এ নিয়ে আমাদের ভেতরে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন

আরএইচ/সিএস

Print This Post Print This Post