সরকার লাইফ সাপোর্টে রয়েছে: গয়েশ্বর

সিএস ডেস্ক | আপডেট : ৬ নভেম্বর, ২০২০ শুক্রবার ০৬:৩০ পিএম

সরকার লাইফ সাপোর্টে রয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এই লাইফ সাপোর্ট খোলার দায়িত্ব যদি জনগণ নিয়ে নেয়, তাহলে সরকারের মেয়াদ খুব বেশি থাকার কথা নয়।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহসহ নেতাকর্মীদের সুস্থতা কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম।

গয়েশ্বর বলেন, কারও দুঃসময়ে তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া চাওয়ার মানসিকতা আমাদের মধ্যে এখনো আছে। আমরা আপনজনকে আপন ভাবতে পারি। এ আপনজনকে আপন ভাবতে পারলেই আমাদের মাঝে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে ওঠে।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দলের নেতাদের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আজকে আমাদের অনেক সহকর্মী বিশেষ করে মির্জা আব্বাস ও বেগম আফরোজা আব্বাস, মোহাম্মদ শাহজাহান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ অনেকে করোনায় আক্রান্ত। আজকে আমরা অধিকারহারা মানুষের পর্যায়ে, তাই স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে মানার কথা সেভাবে মানতে পারি না। জীবনের তাগিদে আমাদের রাস্তায় বের হতে হয়, কথা বলতে হয়, মানুষের কাছে যেতেও হয়।

তিনি বলেন, এ রোগমুক্তির জন্য শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই চলবে না, রাজনীতি ও গণতন্ত্রের বিধি মেনে গণতন্ত্রকে অনুসরণ করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে আমাদের এই দুরবস্থা থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ একটা জাতীয় ঐক্য। দলের নেতাকর্মী, নানা ভাবনা, নানা চিন্তা, নানা মতের লোক থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস থাকতে হবে। যেমন ২০০৯ সালের কাউন্সিলে বিএনপির একটা শ্লোগান ও লক্ষ্য ছিলো, ‘নানান মানুষ, নানান পথ, দেশ বাঁচাতে ঐক্যমত’। সে কারণে আমাদের দেশ বাঁচানোর কথা বলতে হবে।

দেশের স্বাস্থ্যখাত এখন ভেন্টিলেশনে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকারও কিন্তু ভেন্টিলেশনের খুব একটা বাইরে না। ভেন্টিলেশনের যে একটা পাইপ থাকে, সেই টিউবটা খোলার লোক নেই। এটা খুললে কিন্তু যারা লাইফ সাপোর্টে থাকে, সাথে সাথে তার মৃত্যু ঘোষণা হয়। বর্তমান সরকারের অবস্থা তাই মনে হয়। জনগণের সমর্থনহীন ভোটারবিহীন ভোট ডাকাতের সরকার লাইফ সাপোর্টে থাকা ছাড়া অন্য কোথাও থাকার সুযোগ নেই। এই লাইফ সাপোর্ট খোলার দায়িত্ব যদি জনগণ নিয়ে নেয়, তাহলে সরকারের মেয়াদ খুব বেশি থাকার কথা নয়।

তিনি বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, রাজনীতি সব কিছু বিশ্লেষণ করলে কখনো কোনো জ্যাতির্বিদের কাছে যেতে হয় না। রাজনীতি যারা করে তারা দূরে দেখে, সামনে দেখুক বা না দেখুক। যে রাজনীতিবিদ দূরে দেখে না, তার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। আমাদের কাছে রোগ নির্ণয় করা আছে, আমরা বুঝতে পারছি, কিন্তু ওষুধটা দিতে পারছি না।

গয়েশ্বর বলেন, আমি আশা করবো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া বিসর্জন দিয়ে আমাদের মূল লক্ষ্য হবে জনগণকে মুক্তি দেয়া। স্বাধীনতার চেতনার গণতান্ত্রিক যে রাষ্ট্র, সে রাষ্ট্রটি যদি আমরা ফেরত আনতে পারি, তাহলে জনগণ আমাদের পুরষ্কৃত করবে। তারচেয়ে বড় প্রাপ্তি আমাদের আর কিছু থাকতে পারে না।

আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আজিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাগপা (একাংশের) সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ হাবিব, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, তাঁতী দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এনএ

Print This Post