সীতাকুণ্ডে বৃদ্ধ শশুরকে ঘর থেকে বের করে দিল শিক্ষিকা পুত্রবধূ

আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২০ ৮:০৭ অপরাহ্ন

নাইম আহমেদ কপিল | আপডেট : ২ নভেম্বর, ২০২০ সোমবার ০৭:৩০ পিএম

৮২ বছরের বৃদ্ধা আবদুল মোতালেব। চাকরি করতেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। কিছু টাকা জমিয়ে অনেক কষ্ট করে জায়গা কিনে করেন বাড়ি। এরমধ্যে ছেলে-মেয়েরা বড় হতে হতে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েন মোতালেব। বিয়েও দেন তাঁদের। কিন্তু তাঁর কপালে যেন সুখ লেখা নেই। এবার পুত্রবধূরা আসার পর থেকেই শুরু হয় ছেলেদের সাথে মোতালেবের সম্পর্কের দূরত্ব। বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। এরপরই শিক্ষিকা গৃহবধূ ও ছেলেরা মিলে  ঘর থেকে বের করে দেয় তাকে। উপায়ন্তর না দেখে অসহায় বয়স্ক শশুর বাধ্য হয়েই আইনের আশ্রয় নেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ডের শুকলালহাট উত্তর মাহমুদাবাদ এলাকায় উপস্থিত হয়ে আবদুল মোতালেবকে নিজ ঘরে বসবাসের সুযোগ করে দেন সীতাকুন্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায়, সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এম.সেকান্দর হোসাইন, সাংবাদিক নাছির উদ্দিন অনিক, জাহেদুল আনোয়ার চৌধুরী ও সীতাকুন্ড থানার উপপরিদর্শক মো.হারুনূর রশিদ।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকা গৃহবধূর নাম উম্মে সালমা নিপা। তিনি উপজেলার মুরাদপুর গোপ্তাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা।

সীতাকুন্ড সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করতেই ঘরে থাকা গৃহবধু শিক্ষিকা উম্মে সালমা নিপা রাগান্তিত হয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা বলেন, ‘একজন শিক্ষিকার কাছ থেকে আমিও একজন সরকারি চাকুরিজীবী হিসেবে এ ধরনের আচরণ মেনে নিতে পারছি না। ৮২ বছরের একজন বয়স্ক লোক, যার নামে বাড়ি ও দোকানপাট। কিন্তু তিনি থাকেন ভাড়া ঘরে। এটা কি মানা যায়? আমি চেষ্টা করেছি ওনাকে সঠিক আশ্রয়স্থলে ফিরিয়ে দিতে।’

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় বলেন, ‘যেটা বয়স্ক আবদুল মোতালেবের সাথে উনার ছেলে ও ছেলের বউরা করেছে তা খুবই অমানবিক। ঘটনার পর আমি বসে একটা সিদ্ধান্ত দিয়ে এসেছি।’

আরএইচ

Print This Post Print This Post