দুধের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে পুত্রবধূকে ধর্ষণ করত শ্বশুর

আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২০ ১:০৪ পূর্বাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট : ৬ অক্টোবর, ২০২০ মঙ্গলবার ১০:০০ এএম

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর মিলন মিয়াকে (৫৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মিলন উপজেলার বিহার ইউনিয়নের বিহার উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

রোববার রাত ১০টায় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে মিলন মিয়াকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

থানার মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মিলন মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে পাশের গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে ৩ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ পায়। ট্রাকে ডিউটি করার কারণে গৃহবধূর স্বামী ২০-২১ দিন পরপর বাড়িতে আসেন।

এই সুযোগে দুশ্চরিত্র শ্বশুর মিলন মিয়ার কু-দৃষ্টি পড়ে পুত্রবধূর দিকে। ছেলে বাড়িতে না থাকার সুযোগে মিলন মিয়া মাঝে মধ্যেই গভীর রাতে পুত্রবধূর ঘরে প্রবেশ করে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এতে পুত্রবধূ জেগে উঠলে শ্বশুর পালিয়ে যেত।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, পরে কৌশল পরিবর্তন করে লম্পট শ্বশুর। তিনি পুত্রবধূকে গাভীর দুধের সঙ্গে নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দিত। তখন পুত্রবধূ দুধ পান করে গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়লে শ্বশুর তার কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করত।

পুত্রবধূ সকাল বেলায় ঘুম থেকে জেগে না ওঠে বেলা ১২টার সময় ঘুম থেকে জাগা পেত এবং তার পরিধান বস্ত্র এলোমেলো হয়ে থাকতো। বিষয়টি পুত্রবধূর সন্দেহ হলে সে নিজেই কৌশলে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও ধারনের চেষ্টা করে।

এক পর্যায়ে ২৬ জুলাই গৃহবধূ শয়ন কক্ষে ঘুমানোর ভান করে থাকলে গভীর রাতে শ্বশুর মিলন মিয়া পুত্রবধূর শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করলে সে কৌশলে তা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

পরে রোববার সন্ধ্যায় গৃহবধূ বাদী হয়ে শ্বশুর মিলন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করে। পুলিশ রাতেই তাকে গ্রেফতার করে। পরে ভিডিও চিত্রটি থানা পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন ওই গৃহবধূ।

শিবগঞ্জ থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান বলেন, সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে মিলন মিয়াকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরএইচ

Print This Post Print This Post