গ্রাহকদের টাকা মেরে হাতি হওয়া রুপসা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে দুদকে তলব

আপডেট: ১ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ৭:৪২ অপরাহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২ অক্টোবর, ২০২০ শুক্রবার ০৭:৩০ পিএম

গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে হাতি বনে যাওয়া রুপসা কিং গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে তলব করেছে দূর্ণীতি  দমন কমিশন (দুদক)। অতিরিক্ত মুনাফার লোভ দেখিয়ে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে তাঁরা হাতিয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকা। মাল্টিপারপাসের নাম দিয়ে টাকাগুলো হাতিয়ে নেয় পরিচালকরা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর দফতরে তাঁদের তলব করা হয়।

এঁরা হলেন- রুপসা কিং গ্রুপের চেয়ারম্যান লায়ন মো. মজিবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মুসা হাওলাদার, প্রকল্প পরিচালক রাশেল হাওলাদার এবং পরিচালক জাকির হোসেন ও আবুল কালাম।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষের বসবাস। নগরের অন্যান্য সব এলাকা থেকে এখানে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে এই এলাকায় গড়ে ওঠেছে দুটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)। কাজের সুবাদে এসব শ্রমিক এ এলাকার আশপাশেই বসবাস করেন। আর এই দুই ইপিজেডে কর্মরত তিন লক্ষ শ্রমিকদের টার্গেট করে এখানে গড়ে ওঠেছে এরকম প্রায় অর্ধশত সমবায় সমিতি।

পোশাক শ্রমিকরা অধিক লাভের আশায় জমা রেখেছে এসব টাকা। এই মাল্টিপারপাস সমিতিটিতে গ্রাহকদের বেশিরভাগই তাদের পরিশ্রমের টাকা ফিক্সড ডেপোজিট করেছেন। ডিপোজিটের এ হার ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।

এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে এই বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মাল্টিপারপাসের আড়ালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্প্রতি অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। এর প্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে রূপসা মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে অবগত করে চিঠি দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার তাদের তলব করা হয়েছে। এছাড়া দুদক থেকে তাদের সম্পদের তথ্য ও তালিকা চাওয়া হয়েছে। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে। সব কিছু যাচাই-বাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে ১৪ জন পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত হয় রূপসা কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিমিটেড। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি প্রয়াত ওবাইদুল্লাহ রুবেল নামের এক পরিচালকের পরিবারের পক্ষে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে ‘রূপসা কিং গ্রুপ’ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। ওইদিন ১৪ ঘন্টার অভিযানে সেখান থেকে নগদ ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা জব্দ করা হয়। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের ভাইস চেয়ারম্যান মুছা হাওলাদার, পরিচালক গোলাম ফয়সাল এবং প্রকল্প পরিচালক রাসেল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরএইচ

Print This Post Print This Post