প্রধান সড়কে কাঁচাবাজার, যানজটে নাকাল এলাকাবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ মঙ্গলবার ১:০০ পিএম

প্রধান সড়কের মধ্যেই কাঁচাবাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লেগেই থাকে যানজট। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক,সিএনজি এবং এ্যাম্বুলেন্স তো দূর, মানুষ হাঁটারও সুযোগ নেই রাস্তা দিয়ে। যানজটকে নিত্য সঙ্গি করে ভোগান্তিতে রয়েছে হাজারো মানুষ। —এমন চিত্র চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের নাপোড়া বাজারের।

অভিযোগ রয়েছে- নাপোড়া বাজারের সবজি বিক্রেতারা প্রতিনিয়ত কাঁচাবাজার বসায় প্রধান সড়কে। বাঁশখালী প্রধান সড়কটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিকল্প সড়ক হিসেবেই বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর সেই সড়কের কাঁচাবাজারের নির্দিষ্ট স্থান ভূমিদস্যুর অবৈধ স্থাপনায় জিম্মি রয়েছে। এতে করে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ পথচারী হয়তো ভুলেই গেছে এখানে যে একটি রাস্তা রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সবজি ক্রয় করতে দেখা গেছে পথচারীদের।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, এই বাজারটি ছনুয়া, শেখেরখীল, পুঁইছড়ি ও নাপোড়া এলাকার জনবসতি নিয়ে প্রসিদ্ধ ও প্রাচীনতম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, ‘এই বাজার থেকে প্রতিবছর প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মতো সরকার রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তুু বাজারটি সংস্কারের জন্য এক মাসের কথা বলে প্রায় ১৪ মাস হয়ে গেলেও আমরা এখনও রাস্তায়। সকাল-বিকাল দিনে দুইবার বাজারটি প্রধান সড়কে বসার কারণে নিত্য যানজট লেগেই আছে। আমরা ঠিক মতো বেচা-কেনা করতে পারছি না।’

এদিকে বাজারের সঠিক জায়গাতে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলে দখলে রয়েছে দুলাল মহাজনের চায়ের দোকান, শাহাদাতের মুরগির দোকান, বিধান দাশের চায়ের দোকান ও জহির মাষ্টারের স’মিল। এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বাঁশখালী উপজেলার সার্ভেয়ার সঠিক স্থানে লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে দিলেও কোন ধরনের প্রতিকার মিলেনি। ফলে বাজারে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা,পথচারী ও গাড়ি চালকের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ভূমিদস্যু দুলাল কান্তি দেবের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ‘এটা আমার বাপ দাদার জমি। এখানে সরকারের যে কোন পদক্ষেপ মেনে নিবো আমরা সবাই।’

পুঁইছড়ি ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তা প্রভাত কুষম দাশ বলেন, ‘পুঁইছড়িতে কৃষিতে তরি-তরকারি যথেষ্ট ফলন হচ্ছে। কিন্তু স্বস্তির সাথে বেঁচা-কেনা করতে পারছেনা। বাজারের সুনির্দিষ্ট জায়গার সংকটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পুঁইছড়ি ইউপি সদস্য শের আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও মহোদয়কে দরখাস্ত দিয়েছি। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর দরখাস্ত দিয়েছি। কিন্তুু কোন কাজ হচ্ছে না। আমাকে বারবার তারা বলেন, দেখবো, দেখবো। কিন্তুু আজ ১৪ মাস হয়ে গেলেও কোন খবর নেই। আমার মনে হচ্ছে টাকার বিনিময়ে সরকার এই অবৈধ স্থাপনা গুলো সরাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজারে এমন এক অবস্থা একটা শৌচাগার পযর্ন্ত নেই। আমি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোমেনা আক্তার মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, ‘নাপোড়া বাজারের বিষয়টি নিয়ে একটা তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য বলেছি। তদন্ত প্রতিবেদন আসার সাথে সাথে বিষয়টি খুব জরুরী ভাবে আমি দেখবো।’

বিইউ/আরএইচ

Print This Post