টেকনাফে স্পিডবোট উল্টে এক শিশুসহ নিহত ৩

আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ৪:১৩ অপরাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক | আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ বুধবার ০৪:১৫ পিএম

কক্সবাজার জেলার টেকনাফের নাফ নদের খালের মুখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্পিডবোট উল্টে রশিদা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধা এবং সুমাইয়া (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাফ নদের মুখে টেকনাফের চৌধুরী পাড়ার খালে বিজিবির চেকপোস্টের কাছাকাছি স্পিডবোট চালকের অসাবধানতার কারণে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রশিদা বেগম সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিম পাড়ার মৃত আবদুল গফুরের স্ত্রী। সুমাইয়া সেন্টমার্টিনের পশ্চিম পাড়ার মো. আয়েছের মেয়ে।

আহতরা হলেন-আল নোমান, মেহেরুল নেছা, মো. ইউনুছ, মো. আমিন। তারা সবাই সেন্টমার্টিন দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। টেকনাফ থেকে দ্বীপে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

টেকনাফ সদর বিজিবির চৌকির সুবেদার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘নাফ নদের মুখে সেন্টমার্টিনগামী একটি স্পিডবোট দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল। এতে টেকনাফে ফেরার পথে একটি মাছ ধরার ট্রলারে গিয়ে ধাক্কায় দেয়। এ সময় স্পিডবোটটি উল্টে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ যাত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘মূলত স্পিড বোটের চালক মো. কায়ছারের অসাবধানতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কেন না চালকের কানে হেডফোন ছিল। তাছাড়া বোটটি দ্রুত গতিতে চলন্ত অবস্থায় চালক পেছনে ফিরে তাকালে দুর্ঘটনা ঘটে।’

এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ‘টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাওয়ার পথে নাফ নদের মুখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহি স্পিডবোট মাছের ট্রলারে ধাক্কায় দেয়। এতে স্পিড বোট উল্টে যাত্রীরা ডুবে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে টেকনাফের বেসরকারি হাসপাতাল মেরিন সিটি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে আহত রশিদা বেগম নামে এক নারী মেরিন সিটিতে মারা যায়। ওই বোটে আমার শাশুড়ি ও নাতনি ছিল। নিখোঁজ নাতনির লাশ  সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ জালিয়াপাড়াস্থ নাফ নদীর চর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। শাশুড়ির অবস্থা অবনতি হওয়ায় কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

টেকনাফ উপেজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. আহনাফ চৌধুরী বলেন, ‘এক নারীসহ মুমূর্ষু অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার মধ্যে নারীর অবস্থায় আশংঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নতি চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

স্পিডবোটের চালক মো. কায়ছার বলেন, ‘টেকনাফ থেকে ৮ জন যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিনে যাত্রা করি। কিছুক্ষণ পর দেখি বোটের তৈলের টাংকির পাইপে সমস্যা। তখন চলন্ত অবস্থায় পেছনের পাইপ ঠিক করছিলাম। পরে সামনে তাকিয়ে মাছ ধরার ট্রলার দেখলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা লেগে বোটটি উল্টে যায়। আমার ভুলের কারণে আজ এতো বড় দুর্ঘটনা ঘটে।’

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post Print This Post