নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ বুধবার ১১:০০ এএম
ওয়াসা কর্তৃপক্ষ পানির লাইন সংস্কারের কাজ করতে গিয়ে দুর্ভোগে ফেলেছে ইপিজেড এলাকার প্রায় ২শ গ্রাহককে। সেখানে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার পরিবার। প্রায় ১৪ দিন ধরে ওয়াসার পানি নেই ওই এলাকায়। ড্রেন পরিষ্কার ও অবৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করার কারণে কেটে ফেলেছে গ্রাহকের বৈধ লাইনও। চলমান পানির লাইন কেটে ফেলায় চরম দুর্ভোগে স্থানীয় গ্রাহকরা— এমন অভিযোগ উঠেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার আকমল আলি রোড এলাকায় দেখা যায়, প্রায় ১৪দিন ধরে ওয়াসার পানির সংকটে এখানকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে খাবার পানি ক্রয়ের জন্য দ্বারস্থ হচ্ছেন দোকানে। এছাড়াও এখানকার মুসল্লীরা নামাজ আদায়ের জন্য ওযু করার প্রয়োজনীয় পানি পাচ্ছেনা। যার ফলে বাসা থেকেই ওযু করে নামাজ আদায়ের জন্য মসজিদে যেতে হয়।
গ্রাহকদের অভিযোগ— ওয়াসার লাইনম্যান গেইটভাল্ব পরিষ্কার করে পানির সংযোগ দেয়ার জন্য আসলেও কেবলমাত্র একটি গেইটভাল্ব পরিষ্কার করে চলে যায়। অথচ আরও প্রায় ৩টি গেইটভাল্ব অপরিষ্কার থেকে যাচ্ছে। যার ফলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। একাধিকবার তাদেরকে বলার পরেও এ দুর্ভোগের কথা কর্ণপাত করছেন না তারা।
মোহাম্মদ জসিম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের নামে ওয়াসার বৈধ লাইন বিচ্ছিন্ন করে আকমল আলী রোডের বাসিন্দাদের একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছে। আজ ১৪ দিন যাবত আমরা ওয়াসার পানি পাচ্ছি না। পানি ছাড়া জনজীবন অচল। সবমিলিয়ে আমরা দুর্ভোগের মধ্যে আছি।’
তিনি বলেন, ‘জাইকার নতুন লাইন প্রস্তুত করা আছে এবং শুধু গেইটভাল্ব পরিষ্কার করে দিলেই লাইন পাবো আমরা। কিন্তু ওয়াসা কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে প্রায় ১৪ দিন ধরে আমরা ওয়াসার পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তার ওপর এই এলাকায় প্রাকৃতিক পানির উৎসেরও সংকট রয়েছে। কারণ মোটর দিয়ে পানি তুললে লবনাক্ত পানি আসে।’
আবুল কাশেম নামে এক সরকারি চাকুরিজীবী বলেন, ‘আমি ওয়াসার সংযোগ নিয়েছি কেবলমাত্র ১ বছর হয়। লাইন নেয়ার জন্য তাদের সরকারি নির্ধারিত ফি বাদেও বাড়তি প্রায় ২০-৩০ হাজার টাকা বেশি দিয়েছি। উপঢৌকন ছাড়া কেউই লাইন পায় না। এতোকিছুর পরেও আজ ১৪দিন ধরে ওয়াসার পানি নেই। আমার বিল্ডিংয়ের প্রায় ১৬টি পরিবার পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।একাধিকবার ওয়াসা কতৃপক্ষকে বলার পরেও তারা দেখছি দেখছি বলে দিন পার করছেন।’
এ ব্যাপারে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রউফ বলেন, ‘ওই এলাকার লাইনগুলো প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে মেইন রোড থেকে নিয়ে গলির ভিতর দিয়ে রোড কাটিং করে নেয়া হয়েছে। সেখানে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয়। তাই সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে গ্রাহকদের। কবে নাগাদ সব গ্রাহকরা পানি পাবেন এ ব্যাপারে আমার নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার ভাল বলতে পারবেন।’
জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘ওখানে ড্রেনের ভেতর প্রায় ৩শ লাইন রয়েছে। প্রশাসক সাহেব আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা লাইনগুলো ড্রেন থেকে তুলে নিয়ে রাস্তা দিয়ে দেয়। এখন আমরা ১২ ইঞ্চির প্রায় দেড়শ লাইনের কাজ ইতোমধ্যে কমপ্লিট করে ফেলেছি। এখন ৮ ইঞ্চির লাইনগুলো বাকি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সব গ্রাহকরা পূর্বের ন্যায় পানি পেতে আরও সপ্তাহখানেক লাগতে পারে। তবে এব্যাপারে গ্রাহকদের সহযোগীতাও কাম্য।’
তবে এ ব্যপারে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ এ ব্যাপারে অবহিত নয় উল্লেখ করে বলেন, ‘বিষয়টি আমি মাত্র শুনলাম। এ ব্যাপারে আমি অবহিত নই। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।’
সিটিজিসান ডটকম/সিএস
Print This Post
