পরকিয়ার জেরে খুন, দুদিন পর ঘরের মেঝে থেকে লাশ উদ্ধার সীতাকুণ্ডে

আপডেট: ১৬ অগাস্ট ২০২০ ৫:২৬ অপরাহ্ন

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | আপডেট : ১৬ আগস্ট, ২০২০ রবিবার ০৫:১০ পিএম

পরকিয়ার জেরে গৃহকর্তাকে খুন করে মাটি চাপা দেওয়ার দুইদিন পর মাটি খুড়ে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকার ৩নং ওয়ার্ডের শ্রমিক নেতা মছিউদৌলার বাড়ির লাল মিয়ার ভাড়া বাসায়।

এঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং ঘটনাস্থল থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি ও মাটি খোড়ার বেলচা উদ্ধার করে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১টার দিকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।

নিহত নুর উদ্দিন উপজেলার কেশবপুরের নুরুল হকের পুত্র। খুনি রুমেন মিয়া হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার পাইকপাড়া গ্রামের রমজান আলীর পুত্র।

এলাকাবাসী ও নিহতের আত্মীয়স্বজনের ধারণা পরকীয়ার কারণে পরিকল্পিত ভাবে নুর উদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে গৃহকর্তা নুর উদ্দিন (৪৫) কে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে ও কুপিয়ে হত্যা করে পাশের রুমে গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলে রুমেন মিয়া (৩০) নামের এক যুবক।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত নুর উদ্দিন ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। গত এক বছর আগে রুমেন নামের এক যুবককে তার ঘরে এনে আশ্রয় দেয়। রুমেন পেশায় একজন ব্যাটারী চালিত রিক্সা চালক, নুর উদ্দিন তার স্ত্রীকে সৎ ভাই হিসেবে পরিচয় করে দেয়। রুমেন প্রায় এক বছর ধরে নুর উদ্দিনের ঘরে থেকে রিক্সা চালাতো। খাওয়া ও থাকা নিয়ে সে মাসে মাসে নুর উদ্দিনকে খরচ দিতো। তবে রমজানের পর থেকে রুমেন নুর উদ্দিনকে খরচ দেয়া বন্ধ করে দেয়। এনিয়ে মাঝে-মধ্যে দুই জনের মধ্যে তর্ক-বির্তক হতো বলে জানান নুর উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নিয়ে আমার স্বামীর সাথে রুমেনের ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার স্বামী রুমেনকে মারার জন্য উদ্বাস্তু হয়। এসময় একজন আরেকজনকে খুন করবে বলেও হুমকি দেয়। তারা দুইজন এক রুমে ঘুমাতো আমি আরেক রুমে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঘুমাতাম। ঘটনার দিন রাতে দুইজনই ঘুমাতে যায়। রাত ১ টার দিকে পাশের রুম থেকে শব্দ আসায় আমি গিয়ে দেখি আমার স্বামীকে ঘুমের মধ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে খুন করছে। ঐ সময়ে আমি রুমেনের দুই পা জড়িয়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাই। এসময় সে আমাকে এবং আমার দুই ছেলে মেয়েকেও খুন করবে বলে হুমকি দেয় এবং বলে যে মুখ না খোলার জন্য। সে বলে যদি ঘটনাটি কাউকে বলি তাহলে আমাদেরকেও খুন করবে। রাতে সে পাশের মুরগী রাখার ঘরে গর্ত করে মাটিতে লাশ পুঁতে ফেলে।

বিষয়টি জানাজানি হলে রুমেনকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাকিম আরজুকে জানালে তিনি বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানান। চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আজিজ উক্ত বিষয়টি মডেল থানাকে অবহিত করলে প্রথমে ফৌজদারহাট ফাঁড়ির এসআই নুর নবী ঘটনাস্থলে হাজির হয়।

এরপর সহকারী পুলিশ সুপার (সীতাকুণ্ড সার্কেল) শম্পা রানী, মডেল থানার ওসি ফিরোজ হোসেন মোল্লা এবং ওসি (তদন্ত) সুমন বনিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় আটক খুনি রুমেনের স্বীকারোক্তিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা লাশ উদ্ধার করে।

এব্যাপারে মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বনিক বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক আসামি রুমেন মিয়ার স্বীকারোক্তি মোতাবেক ঘরের ভিতর থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিটিজিসান ডটকম/এনএকে

Print This Post Print This Post