বাড়ছে নৃশংস খুনসহ অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার সীতাকুণ্ডে

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | আপডেট : ০৬ জুলাই, ২০২০ সোমবার ০৮:০০ পিএম

নানা কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বেড়েই চলছে হত্যাকাণ্ড। চলতি গত ৬ মাসে পাঁচটি খুন ও অজ্ঞাত সহ মোট দশটি মরদেহ করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, যাতায়াতের সহজ মাধ্যম হওয়ায় বাইরের খুন হওয়ার পর লাশ এনে ফেলা হচ্ছে সীতাকুণ্ডে। এ ঘটনার সঙ্গে সীতাকুণ্ড থানার কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে চলতি বছরে সীতাকুন্ড উপজেলায় খুন, আত্মহত্যা, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার সহ চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কের মধ্যদিয়ে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

যেভাবে ৫ খুনের ঘটনা হয়

জানা যায়, ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকায় শাহিন (২৫) ও জাহিদ (২৫) প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়। ‘ঠুনকো’ ঘটনার জের ধরে গত ২৩ মে প্রতিপক্ষের হামলায় খুন হয়েছে রুহুল আমিন (৬০)। পারিবারিক ইস্যূ ধরে ৮ জুন মুরাদপুর ইউনিয়ন এলাকায় নাতির হাতে আলীম উল্লাহ ১১০ বছরে বৃদ্ধ খুন হয়। তার ৪দিনের মাথায় ছলিমপুর ইউনিয়ন এলাকায় এক মাদককারবারির হাতে মর্জিনা বেগম (৬৮) নামে এক নারী খুন হয়।

যেভাবে অজ্ঞাত ৫ মরদেহ পাওয়া যায়

২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট থেকে ২৭ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই মাসের ৩১ তারিখ ভাটিয়ারী লেক থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ২১ মে শীতলপুর এলাকার পাহাড় থেকে এক অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্বার করা হয়। ৩ এপিল উপজেলার মাদামবিবিরহাট এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় খাল থেকে এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-সীতাকুণ্ডের সদস্য সচিব লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘খুন ও ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কিছু বিপথগামী যুবক জড়িয়ে পড়েছে খুন ও ডাকাতিতে। এঁদের বেশির ভাগই মাদকাসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে এরা ডাকাতি করে ও খুন করতে দ্বিধা করে না। এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হবার কারণে সীতাকুুণ্ডে ডাকাতি করা সহজ। ডাকাতদল ও খুনের বিষয়গুলো নির্মূল করতে হলে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করার পাশাপাশি জনগণকে সাহসী, সচেতন ও সংগঠিত হতে হবে।’

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে এই ধরনের কোনো অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় খুবই উৎকণ্ঠার মধ্যে আছি। এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সীতাকুণ্ড থানায় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রশাসনের ব্যর্থতা ছাড়া কিছুই নয়। পুলিশ তাদের যথাযথভাবে পালন করেন তাহলে এ ধরণের ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।’

সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, ‘লাশ উদ্ধার ও খুনের প্রত্যেকটি ঘটনায় আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা বেশকিছু সফলতা অর্জন করেছি। বেশ কিছু ঘটনার ভেতরে গিয়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিয়েছি। পুলিশ সব সময় জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করছেন ও করে যাবে।’

সিটিজিসান ডটকম/সিএস/এনএকে

চট্টগ্রামের সকল সংবাদ সবার আগে আপনার ব্রাউজারে নোটিফিকেশন হিসেবে পেতে বাম পাশের লাল চিহ্নিত ‘বেল বাটনে’ ক্লিক করে এখনই সাবস্ক্রাইব করুন, আর হয়ে যান আমাদের নিয়মিত পাঠক।

Print This Post