সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি | আপডেট : ০২ জুলাই, ২০২০ বৃহস্পতিবার ১২: ৩০ পিএম
পারিবারিক কলহ ও ‘ঠুনকো’ ঘটনায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা বেড়েই চলছে ভয়ঙ্কর আত্মহত্যার ঘটনা। তার মধ্যে মৃত্যু হারের সংখ্যায় বেশির ভাগ যুবক-যুবতি। পারিবারিক কলহ, দুশ্চিন্তা ও হতাশা থেকে এ পথ বেঁঁছে নিচ্ছেন তাঁরা- এমনটাই দাবি করছেন সচেতন মহল।
এদিকে গত ছয় মাসে সীতাকুণ্ড উপজেলায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে নয়টি ও রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে আরও একটির। প্রতিমাসে উপজেলায় একটির অধিক আত্মহত্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে সেখানকার জনমনে আতঙ্গের পাশাপাশি একশ্রেণীর অভিভাবকরা রয়েছেন চিন্তিত।
দেখা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়ন এলাকায় বছরের প্রথম দিকে অপু জল দাসের (২৮) নামে আত্মহত্যা করেন। ১৪ ফেব্রুয়ারি শ্বশুর বাড়িতে যৌতুকের অভিশাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকায় তুশা আক্তার (১৮)। ২৮ ফেব্রুয়ারি সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা এলাকায় গলায় ফাঁস দিয়ে শারমিন আক্তার নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেন। ১৭ মার্চ পারিবারিক কলহের জের ধরে আত্মহত্যা করেন মোহাম্মদ শামীম (৪০)। এরপর ৪মে মাত্র একঘন্টার ব্যবধানে উপজেলা বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহেদা আক্তার (২৬) ও বাড়কুণ্ড ইউনিয়নে আয়রিন আক্তার (২১) আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনার আরও ৮দিন পর গুলীয়াখালী এলাকায় শহিদুল ইসলাম (২৭) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেন।
এছাড়া ১৭ জুন বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন এলাকায় আত্মহত্যা করে আলাউদ্দিন (৩১) নামে এক যুবক। তার দু’দিনের মাথায় কুমিরা এলাকায় আত্মহত্যা করে অন্তঃসত্ত্বা সুষ্মিতা (৩৫) নামে এক গৃহবধূ। ২৫ জুলাই মুরাদপুর ইউনিয়নে তানিয়া (১৫) নামে এক কিশোরীও আত্মহত্যা করেন।
নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-সীতাকুণ্ড’র সদস্য সচিব লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন সিটিজিসান ডটকমকে বলেন, ‘চলতি বছরে উপজেলায় ঘটেছে ৯টির অধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে যা একদমই অস্বাভাবিক। হতাশা, ভবিষ্যৎ অন্ধকার ভেবে আত্মহননের পথ বেঁঁছে নেয়। তবে আমি মনে তাঁরা একধরনের মানসিক রোগী। অত্মহনন থেকে বাঁচাতে সামাজিকভাবে সচেতন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষার বিকল্প নেই।’
সীতাকুণ্ড মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক খায়রুল হোসেন সিটিজিসান ডটকমকে বলেন, ‘সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় আত্মহত্যার মতো ঘটনা বেড়ে চলছে। প্রাথমিকভাবে যদি ভিকটিমের চিহ্নিত করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে আত্মহত্যা অধিকাংশ কমে যেত।’
সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু সিটিজিসান ডটকমকে বলেন, ‘গত ছয়মাসে ৯ জনের আত্মহত্যা ঘটনাটি উদ্ধেগজনক। অত্যাচারিত হতে হতে যখন কোনো মানুষ এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছায়, যে অত্যাচারের প্রতিকার পাওয়ার কোনো পথ থাকে না, তখন অনেকেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন।’
‘আত্মহত্যা কখনও সমাধানের পথ হতে পারে না। এবিষয়ে ধর্মীয় জ্ঞান চর্চার কোনো বিকল্প নেই।’— যোগ করেন তিনি।
সিটিজিসান ডটকম/সিএস
Print This Post
