স্বদেশ উন্নয়ন প্রকৌশলী লিমিটেড

খাল খননের নামে বসতঘরে তাণ্ডব পতেঙ্গায়! (ভিডিও)

বিনা নোটিশে সিডিএ’র খাল খনন পতেঙ্গায়

ইসহাক বিন হোসেন | আপডেট : ২০ জুন, ২০২০ শনিবার ০৩:০০ পিএম

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) খাল খনন প্রকল্পের নামে বিনা নোটিশে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানা এলাকায় স্থানীয় বেশ কয়েকটি বসতঘরে স্কেভেটর দিয়ে তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এসময় ১০-১২টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কেটে ফেলা হয়— এমন অভিযোগ উঠেছে সেখানকার ঠিকাদার কোম্পানি স্বদেশ উন্নয়ন প্রকৌশলী লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার মিনহান খান সহ দুই স্কেভেটর চালকের বিরুদ্ধে।

গত সোমবার (১৫ জুন) সকালে পশ্চিম মুসলিমাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঘটনার দিন উল্টোপথে খাল খনন করতে চড়াও হয় সেখানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন। এক চেটিয়েভাবে গাছ কেটে ফেলা হয়। এছাড়া পুকুরের বাঁধসহ ভেঙ্গে ফেলা হয় স্থানীয়দের বেশ কয়েকটি বসতঘর। তাণ্ডবের একপর্যায়ে বাঁধার মুখে পড়েন প্রকল্পের লোকজন। পরে কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ইঞ্জিনিয়ার মিনহাজ খান সহ দুই স্কেভেটর চালক।

নাসির নামে এক ভূক্তভোগী বলেন, ‘বিনা নোটিশে সিডিএ’র খাল খননের লোকজন এসেই আমাদের উপর অতর্কিতভাবে চড়াও হয়। ওইদিন সকালে কিছু বুঝার আগেই আমাদের একের পর এক বসতঘর ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে একে একে কেটে ফেলা হয়েছে পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় গাছ।’

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ১৬টি খাল চিহ্নিত করা হয়। নগরের পতেঙ্গা, হালিশহর, আগ্রাবাদ, চাক্তাই, বহদ্দারহাট, শুলকবহর, মুরাদপুর, চকবাজার, বৃহত্তর বাকলিয়া, দেওয়ানবাজার, খাতুনগঞ্জ এলাকায় এসব খালগুলো প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

অনিয়মের অভিযোগ করে ভূক্তভোগীরা আরও বলেন, ‘পশ্চিম মুসলিমবাদ এলাকায় খালের উপর অবৈধভাবে গড়া উঠেছে একাধিক বসতঘর। সেখানে তাঁদের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে ওই ইঞ্জিনিয়ার সুন্দরভাবে খাল খননের কাজ শেষ করেছেন। অথচ আমাদের এলাকায় কাজ করতে এসেই তাঁর (ইঞ্জিনিয়ার মিনহাজ খান) ভিন্নরূপ দেখা গেছে।’

এদিকে পশ্চিম মুসলিমাবাদ এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো সিডিএ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিকট ক্ষতিপূরণের দাবি করেন ভূক্তভোগীরা।

পতেঙ্গা খাল খনন প্রকল্পের ইনচার্জ প্রকৌশলী মিনহাজ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আপনি ওদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছেন। পরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে একপর্যায়ে মুঠোফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন দেন তিনি।

চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খাল খনন প্রকল্পের প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) আহমেদ মাঈনুদ্দিনকে কল করা হলে তাঁর মুঠোফোনের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ/ইবিএইচ

Print This Post