এমপিবি গেইটে সক্রিয় হালিম সওদাগর সিন্ডিকেট

বন্দর থেকে প্রতিদিন অবৈধপথে বের হচ্ছে লাখ টাকার মালামাল (ভিডিওসহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৫ জুন, ২০২০ সোমবার ১১:০০ এএম

চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নিউমুরিং এমপিবি গেইট এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের কতিপয় অসাধু ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতিদিন বের হচ্ছে লাখ লাখ টাকার আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী। ২০-৩০ হাজার টাকা দিলেই অবৈধপথে বের হচ্ছে এসব পণ্য ও মালামাল— এমন অভিযোগ উঠেছে বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে গিয়ে নিউমুরিং এমপিবি গেইট রেলবিট এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানিকৃতপণ্য ঝুঁপড়িতে স্তুপ করা মালামালগুলো সেখান থেকে রাতের বেলায় একটি পিকআপ ভ্যানে বোঝায় করার একটি ভিডিওচিত্র সিটিজিসান ডটকমের হাতে আসে। ভিডিওতে দেখা যায় সেখানে কয়েকজন লোক বন্দর থেকে অবৈধপথে বের করা আমদানিকৃত প্লাস্টিকের দানা ও প্লাস্টিকের রোল গাড়িতে বোঝাই করছে।

চোরাইপথে বের করা পণ্য ও মালামালগুলোর মধ্যে রয়েছে— কয়লা, নিষিদ্ধ পলিথিন, প্লাস্টিকের দানা, খাদ্য দ্রব্য পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঠ, লোহা, গাড়ির যন্ত্রাংশ এমনকি বিষাক্ত শিশা ও গন্ধক।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট দুই থানাকেও ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে এমপিবি রেলবিট এলাকায় সক্রিয় রয়েছে এই চোরাকারবারি চক্র। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারি ও আনসার সদস্যদের ২০-৩০ হাজার টাকা দিলে বের হয়ে যাচ্ছে এসব পণ্যের চালান। ওই এলাকার হালিম সওদাগরের নেতৃত্বে বিশজনের একটি সিন্ডিকেট এসব অবৈধ ব্যবসার যোগানদাতা। চক্রটি বন্দরের ভেতরের আমদানিকৃতপণ্য চোরাইপথে বের করে হালিম সওদাগর ও তাঁর ছেলেদের কাছে পণ্য বা মালামালগুলো বুঝিয়ে দেয়।

অভিযুক্তরা হলেন, চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার নিউমুরিং এমপিবি গেইট এলাকার হালিম সওদাগরের বাড়ির চোরাকারবারি দলের গডফাদার মো. হালিম প্রকাশ হালিম সওদাগর ও তাঁর তিন পুত্র রুবেল প্রকাশ বাবা রুবেল সোহেল প্রকাশ কালা সোহেল ও হাসান প্রকাশ ল্যাংড়া হাসান। এছাড়া এই চক্রটির সঙ্গে রয়েছেন বন্দরের শ্রমিক নেতা মো. কবিরও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইপিজেড থানার এমপিবি গেইট এলাকায় রেলবিট সংলগ্ন হালিম সওদাগরের ৩টি দোকান ও ৪টি ঝুঁপড়িতে গুদামঘর জুড়ে রেখেছে অবৈধপণ্যের বিশাল সম্রাজ্য। শুধু তাই নয়, সেখানে রেলবিট এলাকায় সড়কের অধিকাংশ জায়গাও তাঁর দখলে রেখেছেন। সেখানে একাংশে জুড়ে রেখেছে চোরাইপণ্য কাঠের স্তুপ। এছাড়া দখলে নেওয়া জায়গায় ২৫-৩০টি ভাসমান চায়ের দোকানও বসিয়েছেন তিনি। এসব দোকান থেকে মাসে প্রায় একলাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

সূত্র বলছে, হালিম সওদাগর তাঁর ছেলেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ মাদকের একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। এলাকায় পান থেকে চুন খসলেই হালিম সওদাগরের ছেলেরা দেখিয়ে দেয় দেশীয় অস্ত্রের মহড়া। এদের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা কেউ কথা বলতেও সাহস পায় না। ইপিজেড থানার কথিত ক্যাশিয়ার সুলতান ও বন্দর থানার কথিত ক্যাশিয়ার লতিফ সহ সেখাকার একশ্রেণীর অসাধু পুলিশ সদসেদের সঙ্গে রয়েছে ওই চক্রটির দহরম-মহরম সম্পর্ক।

অভিযোগের বিষয়ে হালিম সওদাগরের কাছে জানতে তার ব্যবহৃত নম্বরে একাধিক বার কল করেও মুঠোফোনের সংযোগ পাওয়া যায় নি।

একই সময়ে অভিযুক্ত হালিম সওদাগরের মেঝো ছেলে রুবেলের কাছে এব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়েই মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লেঃ কর্ণেল আহমেদ জুনাইদ আলম খান (পিবিজিএম)’র নিকট এবিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে সেখানকার কিছু তালিকাভুক্ত চোরাকারবারি চক্রের বিষয়ে আমরা শুনেছি, তাঁদেরকে নজরদারিও রেখেছি। উপযুক্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব মো. ওমর ফারুক সিটিজিসান ডটকমকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার জানা নেই। এই ধরনের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আমরা এখনও পায়নি। যদি বিষয়টি সত্য হয়ে থাকে বা কেউ এবিষয়ে কোনো অভিযোগ করেন, তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো— যোগ করেন এই কর্মকর্তা।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস/আরএইচ/ইবিএইচ

চট্টগ্রামের সব খবর পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে  এবং আমাদের পেইজে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন।

Print This Post