প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’, সর্বাত্মক প্রস্তুতি চট্টগ্রামে

ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের সর্বশেষ অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট : ১৯ মে, ২০২০ মঙ্গলবার ০১:০৫ পিএম

প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) শেষরাতে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে আঘাত হানতে পারে এই ঘূর্নিঝড়। এরপর বুধবার (২০ মে) বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়। এ সময় ৫ থেকে ১০ ফুট অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

এদিকে সকাল থেকে জেলার উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবে করার হচ্ছে মাইকিং। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোলা হয়েছে জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ।

জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সম্ভ্যাব্য আঘাত ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় সার্কিট হাউজে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের। এতে চট্টগ্রাম জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবেন। এর মধ্যে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে পারবেন ৫ লাখ মানুষ। এছাড়া দুই হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক এবং ১ হাজার ২৫০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আরও ৩ লাখ লোক আশ্রয় নিতে পারবেন।

এছাড়া ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে দুই হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৩৪৯ মেট্রিক টন চাল, ৬৮১ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ৫০০টি তাঁবু মজুত রাখা হয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের ফোন নম্বর: ০৩১-৬১১৫৪৫, ০১৭০০-৭১৬৬৯১ এ যোগাযোগ করা যাবে।

এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স নিজস্ব জনবল ছাড়াও প্রস্তুত রেখেছে স্বেচ্ছাসেবকদের।

ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য ও সহযোগিতার প্রয়োজনে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চসিকের কন্ট্রোল রুমের ফোন নম্বরগুলো হলো: ০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯।

নৌবাহিনীর পক্ষ জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তায় চট্টগ্রামে তিনটি ও সেন্টমার্টিনে দুটি যুদ্ধজাহাজসহ নৌ কন্টিনজেন্ট ও মেডিক্যাল টিম মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ তাদের সদর দফতরে জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খুলেছে। এছাড়া দুর্যোগকালীন জরুরি সেবা প্রদানের লক্ষ্যে নগরবাসীকে (০১ ৪০০ ৪০০ ৪০০ ও ০১৮ ৮০ ৮০ ৮০ ৮০) যোগাযোগ করতে সিএমপির পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, চট্টগ্রামে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৮৪টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে। সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ১৯৪টি অ্যাম্বুলেন্স এবং পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ প্রস্তুত রাখা হযেছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বেশি থাকবে। এ সময় সাইক্লোন সেন্টারগুলোয় সামাজিক দূরত্ব মানানো দুরূহ বিষয়। ফলে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি তৈরি হবে। সে কারণে নাগরিকদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ, সেখানে অবস্থানকারীরা ১০০ ভাগ যেন মাস্ক ব্যবহার করেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ঘূর্ণিঝড় কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে তিনটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। এর মধ্যে নৌবিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বর : ০৩১-৭২৬৯১৬। পরিবহন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৭৮ এবং বন্দর সচিবের নিয়ন্ত্রণকক্ষের নম্বর : ০৩১-২৫১০৮৬৯।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রস্তুতি হিসেবে চট্টগ্রামে ৪৭৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় চার হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মজুত করা হয়েছে শুকনো খাবার। গঠন করা হয়েছে মেডিকেল টিম।

সিটিজিসান ডটকম/সিএস

Print This Post