করোনা/ বিপাকে পড়েছে কর্মহীন ভাসমান মানুষ

শাহিন মুরাদ | আপডেট : ০৪ মে, ২০২০ সোমবার ০১:৫৭ পিএম

করোনা ভাইরাসের কারণে চট্টগ্রাম প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগরকে হোম কোয়ারেন্টাইন ও লকডাউনের আওতায় আনা হলেও এর প্রভাব পড়েনি ফুটপাতে বসবাস করা এক শ্রেণীর হতদরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে। আগের মতোই চলছে তাঁদের জীবনযাপন ও চলাফেরা। সামাজিক দুরত্বের বালাই নেই সেখানে। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে মরণব্যাধি করোনার৷ ছবির চিত্র— সরেজমিনে রেলওয়ে স্টেশনে ভাসমান লোকজনের৷

এদিকে করোনার পরিস্থিতিতে নগরজুড়ে কর্মহীন পড়া ভাসমান মানুষগুলোর কমেছে আয়। অলি-গলিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে খাবার ও ত্রাণ বিতরণ করা হলেও সাহায্য পাচ্ছে না ফুটপাতের মানুষগুলো। এতে কর্মহীন হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তাঁরা— এনমনটাই দাবি তাঁদের।

সরেজমিনে নগরের ফকিরহাট, বারেক বিল্ডিং, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, গরিবুল্লাহ মাজার, প্রবর্তক এলাকার বদনা শাহ মাজার, বায়েজিদ বোস্তামী মাজার, লালদিঘী এলাকা, পশ্চিম মাদারবাড়ি মোড়, নিউমার্কেট, কদমতলী মোড়, নতুন ও পুরাতন রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশের ফুটপাত, বিভিন্ন মার্কেট ও দোকান ও ধর্মীয় স্থাপনা ভাসমান লোকজনের মানবেতর জীবনপার করতে দেখা যায়।

এভাবেই নগরের ফুটপাতে দিন যাচ্ছে এসব অসহায় মানুষদের
এভাবেই নগরের ফুটপাতে দিনযাপন করছে অসহায় মানুষরা। ছবিঃ সিটিজিসান

দেওয়ানহাট রেলস্টেশন এলাকায় ব্রিজের নীচেই বসবাস করছেন দুইনারী। তাদের দুইজনের বাড়ি ভোলা জেলায়। প্রায় ১৫ বছর ধরে আছেন চট্টগ্রামে। দুইজনের স্বামী দিনমজুর। লকডাইনে কর্ম নেই তাঁদের৷

তাঁরা প্রতিবেদককে দেখে আক্ষেপের সুরে বলে, ‘সপ্তাহখানেক ধইরা কিছু চাইল (চাল) ও ডাইল (ডাল) সস্তাদামে কেনায় এখনও পর্যন্ত কোন রকম জীবনপার করতাছি বাবা। সামনে দিনগুলানের কি অইব তা আল্লাহ মাবুদ ছাড়া কেউ জানে না।

পুরাতন রেলস্টেশনে ফুটপাতে খোলা আকাশের নীচে পরিবার নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন অনেকেই। সেখানে প্রতিবেদকের কথা হল চল্লিশঊর্ধ্ব বয়সের মো. সেলিমের সঙ্গে। কিশোরগঞ্জ জেলার সরাচর থানা এলাকার বাসিন্দা সে৷

তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনায় ঘরবন্দি হওয়ায় সড়কে বিচরণ নেই কোন মানুষের। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি একেবার স্থবিরতা। কাজ-কর্ম নেই। এখান দিয়ে অনেকেই ত্রাণ নিয়ে যায়। কিন্তু কেউ একমুঠো সাহায্যে দেয় না। এতে পরিবার নিয়ে দুর্বিষহ জীবন পার করছি।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) সভাপতি এডভোকেট জিয়া আহসান হাবীব বলেন, রেলওয়ে ষ্টেশন সহ নগরের অধিকাংশ জায়গায় রয়েছে ভাসমান মানুষ। এ করোনায় পরিবর্তন নেই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে। এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাধ্যমেও ছড়াতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস, এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এদেরকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় কোয়ারেন্টাইনে আনাও এই মুহূর্তে অতীব জরুরি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের একশ্রেণীর ভাসমান লোকজনের অধিকাংশরাই বাস করছে রেলওয়ে স্টেশন এলাকাসহ তার আশপাশের জায়গা ঘিরে। এক্ষেত্রে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট জনবলসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন ইচ্ছে করলে এই জনগোষ্ঠিকে সতর্কতা ও আইন প্রয়োগসহ তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনার কাজ করতে পারে। এছাড়া, এই মুহূর্তে এসব মানুষগুলোর প্রতি এনজিও, মানবাধিকার ও বিত্তশালীরা এগিয়ে আসারও অনুরোধ জানান তিনি।

সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ

Print This Post