অনলাইনে ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহনে চবি প্রশাসনের বৈঠক

অমিত কান্তি সিকদার | আপডেট : ০৪ মে, ২০২০ সোমবার ০১:১০ পিএম

করোনার প্রকোপে সারাদেশে চলছে লকডাউন। গত মার্চ মাস থেকেই করোনা প্রতিরোধে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অনান্য কর্মক্ষেত্রও বন্ধ রয়েছে।এ ছুটির কারনে শিক্ষার্থীদের সম্মুখীন হতে হবে বড় দরনের সমস্যার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করোনা শেষে খুলে দেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের ভুগতে হবে সেশন জটের বিপাকে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে)  শিক্ষার্থীদের এরুপ সমস্যার সমাধানের তাগিদেই বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এক বৈঠক শেষে সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম সম্পাদন করার নির্দেশ দেয়।

ইউজিসির এ নির্দেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চবিতে ৯টি অনুষদের ডিন, ৫৪টি বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের প্রধানদের নিয়ে আজ (সোমবার) সকালে উপাচার্য সভাকক্ষে সভা আহবান করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে সভাপতিত্ব করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার। এ সভায় ছাত্র উপদেষ্টা, প্রক্টর, আইসিটি সেলের পরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে ক্লাস করা প্রায় অসম্ভব বলে জানিয়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা। কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সকল শিক্ষার্থীর আর্থিক অবস্থা সমান নয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রতিদিন কয়েক ঘন্টা অনলাইন ক্লাসে যুক্ত থাকতে হলে গুনতে হবে শতাধিক টাকারও বেশি ইন্টারনেট বিল। তাছাড়া সাধারণ ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী। প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত গতির ইন্টারনেটও পাওয়া যায় না সব সময়।

এ বিষয়ে নড়াইলে অবস্থান করা নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৌরভ দাস ‘সিটিজিসান’কে বলেন,‘গ্রামের বাড়িতে প্রায় সময়ই লোড শেডিং থাকে।ফলে অধিকাংশ সময়ে ফোনে চার্জ থাকে না।তারপর বাড়তি ইন্টারনেট বিল গুনতে হবে অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে হলে যা সকল শিক্ষার্থীদের পক্ষে সহজ নয়।এছাড়াও গ্রামে ইন্টারনেটের গতি খুবই কম যা অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহনের জন্য যথেষ্ঠ নয়।’

রংপুরে অবস্থান করা নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিদ বসুনিয়া বলেন,‘আমার মতো যেসব শিক্ষার্থী গ্রামে আছে তাদের জন্য অনলাইন ক্লাস এখন নতুন বিড়ম্বনার জন্ম দিবে। প্রতিটি ক্লাসের জন্য নির্দিষ্ট ইন্টারনেট প্যাক কিনতে বাড়তি টাকা লাগবে। গ্রামে ইন্টারনেটের গতি নেই। অনলাইন ক্লাসের জন্য সেরকম পরিবেশও সবার বাড়িতে নেই।এ অবস্থায় মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করাও সম্ভব হবে না।

এছাড়াও মংলা থেকে সমাজতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সকিব বলেন, ‘অনলাইনে ক্লাস করার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত নই। এমনিতে সবার আর্থিক অবস্থা খারাপ। বাড়তি টাকা ইন্টারনেটের জন্য দেওয়ার সামর্থ্য অনেকের নেই। তাছাড়া আমাদের জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও চবির অনেক শিক্ষার্থী আছে। তাঁদের এলাকায় ইন্টারনেট দূরে থাক, মোবাইলের নেটওয়ার্কই ঠিক মত থাকে না।’

সিলেট থেকে সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক দাস বলেন, ‘আমরা যারা গ্রামে অবস্থান করছি তাদের জন্য অনলাইনে ক্লাস করা মোটেও সহজ কাজ নয়।এজন্য আমাদের একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে এবং এসব সমস্যার সমাধান করে অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহন করা কিছুটা স্বপ্নের মতো।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে ইউজিসি একটা নির্দেশনা দিয়েছে। তবে আমাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী গ্রামে চলে গেছে। গ্রামে ইন্টারনেটের গতি ও শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থাও ভালো না। এছাড়া অনেকের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলও নেই। অধিকাংশ শিক্ষক এটার বিপক্ষে। সব মিলিয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সোমবার একটি মিটিং ডেকেছি। যারা সভায় আসতে পারবেন না তাদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে আমরা কথা বলবো।’

সিটিজিসান ডটকম/আরএইচ

Print This Post