রবিউল হোসেন রবি | আপডেট : ৩০ এপ্রিল, ২০২০ বৃহস্পতিবার ১১:০৪ এএম
করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে বাঁচতে, সুস্থ্য ও নিরাপদ থাকতে বেড়েছে করোনা প্রতিরোধের উপকরণ সামগ্রীর চাহিদা৷ করোনা ভাইরাসের কারণে এসব পণ্য সামগ্রীর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের দোকান, ফার্মেসিগুলোতে দেখা দিয়েছে হ্যান্ডস্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্কের সঙ্কট। তবে বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে এবং ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে এসব উপকরণ সামগ্রী। আবার একশ্রেণীর ক্রেতারা সেখান থেকে সহসাই কিনছেন এসব।
সরেজমিনে ঘুরে নগরীর বন্দরটিলা, ইপিজেড, কাস্টম, আগ্রাবাদ, বড়পুল, চৌমুহনি মোড়, কদমতলী, দেওয়ানহাট, ওয়াসা ও জিইসি এলাকায় এসব সামগ্রী বেচা-কেনা করতে দেখা গিয়েছে৷
আগ্রাবাদ বাদামতল মোড় এলাকায় ভ্যানে করে মাস্কসহ করোনা উপকরণ বেচা-কেনা করছিলেন রফিক উদ্দিন। তার জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘দেশে করোনা ভাইরাস আসার আগে ফুটপাতে কাপড় বেচা-কেনা করতাম। এখন ফুটপাত অন্যসব ব্যবসা বন্ধ থাকায় করোনা উপকরণ বিক্রি করছি। বসে থাকলে তো আমার সংসার চলবে না। বেচা-কেনা খারাপ হয় না, ভালই হয়৷ রিকশাচালক থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন সবাই এসব কেনেন।’
এলিট কসমেটিক্যাল লিমিটেডের পণ্যের গায়ে লেখা ১৮০ টাকা দামের এক বোতল হ্যান্ডস্যানিটাইজার কিনেছেন দুলাল নামে এক ব্যবসায়ী। এখান থেকেই কেন কিনলেন— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দোকানে গায়ের দামের চেয়ে অতিরিক্ত দাম চায়, তাই এখান থেকে কিনছি। জিনিস তো একই, দাম যদি এখানে কম পাই, এখান থেকেই তো কিনবো।’
এদিকে, ইপিজেড এলাকা থেকে মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস কিনেছেন পোশাক শ্রমিক টিটু ও মাইনুল। তারা বলেন, ‘এলাকার অধিকাংশ ফার্মেসিগুলোতে ওষুধ ব্যতীত মাস্ক, হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও হ্যান্ডগ্লাভস পাওয়া যায় না। ফার্মেসি দোকানিরা এসব চাইতে গেলে শুধু নাই নাই বলে। ফুটপাতে যেহতু পাওয়া যায় তাই উপায় না দেখে এখান থেকেই কিনছি। লাগলে তো কিনতে হবেই যেখান থেকে হোক৷’
দেওয়ানহাট এলাকায় ভ্যানে করে করোনার সুরক্ষার উপকরণ বেচা-কেনা করছিলেন ব্যবসায়ী আনু মিয়া। তিনি বলেন, ‘সকালবেলা বেচা-কেনা ভাল হয়। আবার দাম কম হওয়ায় সবাই সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতেও পারছে। প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকার মতো বেচা-কেনা করা যায়।’
এদিকে নগরের বেশ কয়েকটি ডিপার্টমেন্টাল ও ফার্মেসির দোকানের বিক্রেতারা বলেন, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, সার্জিক্যাল মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভসের সাপ্লাই কম। তাই লোকজনের চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করতে পারছি না৷ যার ফলে বিক্রিও করতে পারি না।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি এই প্রসঙ্গে বলেন, সার্জিক্যাল মাস্কগুলো ডেইলি টু ডেইলি ব্যবহারযোগ্য। দুই পর্দাযুক্ত কাপড়ের তৈরি মাস্ক পুনরায় ব্যবহার করা যায় ধোয়ার পর। এতে কোন সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন কোম্পানীর পণ্যগুলোর মধ্যে ব্লিচিং পাউডার ও হ্যান্ডস্যানিটাইজারসহ অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করলে যেকোন জীবাণু ধ্বংসের কাজ করবে৷
সিটিজিসান ডটকম/সিএস
Print This Post
