রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক :: চট্টগ্রামের চাদগাঁও আবাসিক এলাকায় এক যুবককে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে প্রতিবেশি অপর এক যুবক। মৃতের বড়ভাই জাহেদ হোসেনের অভিযোগ, পূর্ব দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় রোববার সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজ পড়ে ফেরার পথেই জাহেদকে আটক করে মারধর করতে থাকে স্থানীয় প্রায় সাত/আট জনের একটি গ্রুপ। সে সময় ছোটভাই জিয়াদ হোসেন বড়ভাইকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে বাঁচাতে গেলে তাকে ছুরিকাঘাতে খুন করে সেই সন্ত্রাসীরা।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আমির হোসেন বলেন, রাত পৌনে আটটার দিকে চান্দগাঁও এলাকা থেকে জিয়াদ হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে চমেকে নিয়ে আসেন তার ভাইসহ কিছু যুবক। হাসপাতালে আনার পরও সে জীবিত ছিল। অপরারেশন থিয়েটারে ঢুকানোর পর পরই তার মৃত্যু হয়।
জরুরী বিভাগের চিকিৎকের উদৃতি দিয়ে এসআই আমির হোসেন বলেন, পেটের একদিকে ছুরির একটি স্টেপের চিহ্ন রয়েছে। ওই ক্ষতস্থান দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
মৃত জিয়াদ হোসেন নগরের চান্দগাঁও থানার পাঠানিয়া গোদার পাড় সানোয়ারা আবাসিকের পাশ^বর্তি কামাল মাষ্টারের বাড়ির মৃত মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে। মৃত সেলিমের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জিয়াদ হোসেন ছিলেন দ্বিতীয়। স্থান একটি এ্যালমুনিয়াক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন জিয়াদ। আর বড়ভাই জাহেদ হোসেন এলাকায় পার্টনারে “চন্দ্রিমা ক্যাবল” নামে ডিস লাইনের ব্যবসা করেন।
জাহেদ হোসেন জানান, চান্দগাঁও’র পাঠানিয়া গোদার পাড় সানোয়ারা আবাসিকসহ এই এলাকায় ক্যাবল ব্যবসা থেকে প্রতিমাসে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা চায় মো. রাসেল, মো. আজাদ ও আরমানসহ অন্তত ১০জনের একটি গ্রুপ। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ডিসলাইনের সকল সংযোগ কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেয় এই গ্রুপটি।
রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নজরে আসার পর এলাকার মুরুব্বিদেরকে জানিয়ে ফের ডিসলাইন ঠিককরেন জাহেদ হোসেন ও তার ব্যবসায়ীক পার্টনার বিপ্লব। এরপর সন্ধ্যায় জাহেদ হোসেন স্থানীয় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বেরহতেই জাহেদ হোসেনকে পথে আটক করে পেটাতে থাকে স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রুপের রাসেল, আজাদ ও আরমানসহ সাত/আটজনের একটি গ্রুপ। সে সময় এ ঘটনা দেখতে পেয়ে বড়ভাইকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে জাহেদের ছোটভাই জিয়াদ হোসেন। আর এসময় সন্ত্রাসী গ্রুপের রাসেল জিয়াদ হোসেনর পেটে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়েই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে জাহেদসহ স্থানীয় কিছু যুবক জিয়াদকে উদ্ধার করে চমেকে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিএমপির চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বড়ভাইটে চাঁদাবাজরা আটক করে মারধর করে। সে সময় বড় ভাইকে সেভ করতে গেলে বখাটেরা জিয়াদের পেটের ডানপাশে ছুরিকাঘাত করে। খভর পেলাম সে হাসপাতালে মারাগেছে। বখাটেদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ##
Print This Post
