অনলাইন | সিটিজিসান.কম

ঢাকা | ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার ১২:২৫ পিএম |
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যেসব পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের তিন সপ্তাহের মাথায় তারা এখন অসন্তুষ্টির কথা জানিয়ে বলছেন, আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরেছেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আসা কানাডার তানিয়া ফস্টার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যতটা অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে বলে মন্তব্য করছিলেন তাঁরা, এখন বলছেন নির্বাচন ততটা সুষ্ঠু হয়নি।
অথচ ৩০ ডিসেম্বর সকালেই তানিয়া ফস্টার সকালে ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, আমরা এখন পর্যন্ত ৫টি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। এখানকার পোলিং এজেন্ট থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসার সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন। ভোটাররা উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন। বাংলাদেশের একাদশ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।
সেদিন তার সঙ্গে থাকা কানাডা, ভারত, নেপাল ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা একই কথা বলেছিলেন। এদের সঙ্গে ছিলো সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনস। যদিও নাম এবং লোগোতে মিল থাকলেও দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সঙ্গে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের কোনো সম্পর্কই নেই।
সেই সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুস সালামও বলছেন, ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন- আওয়ামী লীগের কর্মীরা ভোটের আগের রাতেই ব্যালট বাক্স ভরেছেন, ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে নতুন ভোট হওয়া উচিত।
আবদুস সালাম বলেন, এখন আমি সবকিছু জানতে পেরেছি এবং বলতে পারি, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি।
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পর তানিয়া ফস্টার রয়টার্সকে বলেন, তখন তিনি সবকিছু একটু বেশি সরলভাবে নিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে যে সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের যোগসূত্র রয়েছে বা সংগঠনটি যে সার্কের কেউ নয়, তা আমি জানতামনা।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, বিষয়টি আমার ভালো লাগেনি। আমার মনে হচ্ছে সবকিছু আমি একটু বেশি সরলভাবে নিয়েছিলাম। আমরা কেবল ঢাকার নয়টি ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলাম, তারপরও আমাদের প্রতিবেদন যে এতটা গুরুত্ব পাবে, তা বুঝতে পারিনি। আমরা অপেক্ষাকৃত প্রতিকূল এলাকাগুলোয় যাইনি।
সিএস/সিএম/এসআইজে
Print This Post
