স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম | ৯ জানুয়ারী ২০১৯, বুধবার ০৩:২০ পিএম |
একাদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক মাঠের প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ থেকে ভোটের ব্যাপক ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর চট্টগ্রামে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি দলীয় কার্যালয়ে প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচিতে নেই।
গত মঙ্গলবার থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর অফিসে দরোজায় তালা লাগানো। ভোটের আগে অফিস দিনভর সরগরম থাকলে ভোটের পর থেকে নেতাকর্মীদের আনাগোনা নেই। এমনকি অফিসের পাশে রাস্তায় কোন পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। অথচ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আশ-পাশের এলাকায় ভোটের আগে থেকে সার্বক্ষনিক পুলিশ পাহারায় ছিল।
মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা জানান, নির্বাচনের পর এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রে থেকে কোন কর্মসূচি আসেনি। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বক্কর বর্তমানে কারাগারে। যারাই কর্মসূচি দিলে পরে নেতাকর্মী উৎসাহ বাড়বে তারাতো নেই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্তরাই তৃণমূল নেতাকর্মীদের ম্যান টু ম্যান যোগাযোগের মাধ্যমে দলকে চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছেন।
এ ছাড়া নির্বাচনের পর নগরীর নাসিমন ভবনে অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও নগরীর দোস্ত বিল্ডিংয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির কার্যালয়েও একই অবস্থা। কোন নেতাকর্মীদের পদচারণ নেই। অফিসে তালা থাকে সব সময়।
জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, কিভাবে অফিসে যাব, সবাইকে জেলে বন্দি করে সাজানো নির্বাচন করেছে এই সরকার। মহানগরের বেশিভাগ নেতাকর্মীরা কারাগারে। অনেকেইে ঘরছাড়া, এলাকাও নেই। মহানগর অফিসের তালা খোলার লোকও তো নেই।
আবু সুফিয়ান বলেন, আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে কারাগার থেকে নেতাকর্মীদের মুক্ত করা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকে কর্মসূচি পালন করবো। কারণ এই নির্বাচনে আমরা বুঝেছি জনগণ আমাদের সাথে আছেন। নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট আমরা পেয়েছি, কিন্তু সেটা চুরি হয়ে গেছে।
এর আগে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এবারই দল থেকে প্রথম প্রার্থী হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরে বিএনপি সুত্রে জানা যায়, মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন গত বছরের ৭ নভেম্বর বিকেলে ঢাকায় সিএমএম আদালত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন। শাহাদাতের বিরুদ্ধে প্রায় ৪০টির বেশি রাজনৈতিক মামলা। কারাগার থেকে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ধানের প্রতীকের প্রার্থী হয়েছিলেন। অপরদিকে, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর গত বছরের ২২ অক্টোবর নগরের জিইসি মোড় থেকে গ্রেপ্তার হন। আবুল হাশেমের সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম।
এদিকে মাহবুবুর রহমান শামীম মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) জামিনে মুক্ত হলেও এখনও কারাগারে আছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
মহানগর বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক ইদ্রিস আলী বলেন, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান শামীম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তবে এখনও ৬টি থানা ও ১৫টি ওয়ার্ডের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েক’শ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা আছে। অনেকে কারাগারে বন্দি আছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে কারামুক্ত করে আবারও নতুন করে কর্মসূচি পালন করবো।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মামুন বলেন, আমরা মাঠ ছেড়ে যায়নি। এই নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে বিএনপির জনসমর্থন আছে। ভোট চুরি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ লাভ করতো। একপ্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মনোবল আছে। বিএনপির ঘুরে দাঁড়ানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সরোয়ার সেলিম, নির্বাচনের আগে প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে মামলা দিয়ে জেলে দিয়েছে। আমরা মাঠে আছি এবং থাকবো। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আলোকে যে কর্মসূচি আসবে সেটা বাস্তবায়নে সবাই একযোগে এই সরকারের বিরুদ্ধে দুবার্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।
সিএস/সিএম/এসআইজে
Print This Post
