চট্টগ্রামে মালামালসহ চোরাইচক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার

আপডেট: ৬ জানুয়ারী ২০১৯ ৯:৫৩ অপরাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম | ৬ জানুয়ারী ২০১৯, রবিবার ০৯:৪৫ পিএম |

চট্টগ্রাম মহানগর বাকলিয়া থানার চাক্তাই ফায়ার সার্ভিস এলাকায় ‘জননী পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিড’র গোডাউন থেকে ১৫৫ বস্তা চোরাই মালামালসহ চোরচক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

রবিবার (০৬ জানুয়ারি) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মহানগর গোয়েন্দা (বন্দরজোন) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তাইন হোসেন।

এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ১৫৫ ব্যাগ রেজিন তাইওয়ান হোয়াইট প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- (১) মো. সালাউদ্দিন (২২), তার বাড়ি ভোলা জেলার লালমোহন থানার চরলক্ষ্যা গ্রামের হামিদ আলীর বাড়ি মো. আনসারের ছেলে। (২) আব্দুল মান্নান (৩৪), তার বাড়ি, চাঁদপুর জেলার সেনগাঁও ২ নম্বক ইউপি পাটোয়ারি বাড়ির আব্দুল ওহাব পাটোয়ারীর ছেলে। (৩) মো. রাশেদ (৩৬), তার বাড়ি চট্টগ্রাম মহানগরের বন্দর থানার মধ্যম হালিশহর ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ঘাসিয়া পাড়ার আহম্মদ মেম্বারের বাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে। (৪) মো. সেন্টু হাওলাদার (৩০), তার বাড়ি বরিশাল জেলা বাকেরগঞ্জ থানার আফালকাঠি বাজার সংলগ্ন হাওলাদার বাড়ির মৃত শাহিনূর বেগম ছেলে। বর্তমানে মহানগরের ইপিজেড থানার আয়েশার মা’র গলিতে বখতিয়ার কলোনী ভাড়া বাসায় থাকেন। (৫) মো. নজরুল ইসলাম (২৯), তার বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা থানার চরনারায়নপুর ছৈয়াল বাড়ির মো. হোসেন ছৈয়ালের ছেলে। বর্তমানে মহানগরের ইপিজেড থানার কমিশনার গলি উত্তর পার্শ্বে হাইওয়ে সুইটসের উপরে ভাড়া বাসায় থাকেন। (৬) মো. আবু সুফিয়ান প্রকাশ রুবেল (২৬), মহানগরের হালিশহর থানার আব্বাস পাড়ার হামিদ আলী সারেংয়ের বাড়ির মৃত আবু তাহের মাঝির ছেলে। বর্তমানে ইপিজেড থানার ব্যারিস্টার কলেজ রোডে ৩৯ নম্বর কাউন্সিলর সুমনের বাড়িতে ভাড়াবাসায় থাকেন। (৭) মো. ফারুক (৩৫), তার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার খরনদ্বীপ উম্মর মিয়া সওদাগর বাড়ির মৃত মো.রফিক মেম্বারের ছেলে। (৮) মো. আলমগীর প্রকাশ লিটন (৩৫) তার বাড়ি মহানগরের পাহাড়তলী থানার সাগরিকা রোড শহীদনগর এলাকার হাজী আব্দুল হাকিম সওদাগরের বাড়ি মোঃ রফিকের ছেলে। (৯) পংকজ দাশ (৫১) তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উত্তর গুজরা যোগেশ দাশের বাড়ির মৃত সুরেন্দ্র দাশের ছেলে। তিনি বর্তমানে জননী পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিড’র ম্যানেজার। (১০) মো. হোসেন (২৬), বান্দরবান জেলার বান্দর সদর থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কালাঘাটা ড্রাইভার পাড়া মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। (১০) সজল দেব (৪১), তার বাড়ি ব্রাহ্ম্রনবাড়িয়া জেলার নবীননগর থানার মেড়কোট ৬ নম্বর ওয়াড হরিপদ দেবের ছেলে। বর্তমানে মহানগরের কোতয়ালি থানার আসাদগঞ্জ হুইল্যা মিয়া মার্কেট ৪র্থ তলায় ভাড়া বাসায় থাকেন।
এর আগে কাভার্ড ভ্যানে করে যাওয়ার সময়ে মাঝপথ থেকে পণ্যে হাওয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গত ১ জানুয়ারি ‘মেসার্স গুডলাক ট্রান্সপোর্ট এন্ড ট্রেডিং এজেন্সি’ ক্লায়েন্ট রাফি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল পক্ষে চট্টগ্রামের ম্যানেজার বাদি হয়ে মহানগর পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা উল্লেখ করা হয়, মহানগরের পতেঙ্গা থানার ভারটেক্স ডিপো থেকে লোড করে ৭টি কাভার্ড ভ্যানে আমদানীকৃত ৩৫৯৪ ব্যাগ সিবিসি রেজিন তাইওয়ান হোয়াইট আমদানীকারকের ফ্যাক্টরীর উদ্দেশ্যে পাঠালে ৭টি কাভার্ডভ্যানের মধ্যে ২টি কাভার্ডভ্যানে ৭৫ ব্যাগ ও ৮০ ব্যাগ মালামাল কম পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি কোম্পানির পক্ষের থেকে ওইদিন পতেঙ্গা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিবাদি করে মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর এই মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

মহানগর গোয়েন্দা (বন্দরজোন) উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম মোস্তইন হোসেন বলেন, গত ১ জানুয়ারি পতেঙ্গা থানায় কাভার্ড ভ্যানে থেকে মালামাল চোরাই হওয়া একটি মামলার তদন্তের ভিত্তিতে চোরাই চক্রের দশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া ১৫৫ ব্যাগ রেজিন তাইওয়ান হোয়াইট প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে তারা স্বীকার করেছেন দীর্ঘদিন ধরে ডিপো থেকে বের হওয়া কাভার্ড ভ্যান থেকে মালামাল চোরাই কাজে জড়িত। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান এস এম মোস্তইন হোসেন।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post