টিকিট ফেরত, ঐক্যফ্রন্টের আচরণে ক্ষুব্ধ জামায়াত!

আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০১৮ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

অনলাইন | সিটিজিসান.কম

ঢাকা | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার ১১:৩০ এএম |

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে যেসব আসন ছাড় দিয়ে চিঠি দিয়েছিল তা ফিরিয়ে দিয়েছে জামায়াত। বিএনপি তার শরিক দুই জোটকে অর্ধশত আসনে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সব দলই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত ছিল।

তবে জামায়াত ও বিএনপির মনোকষাকষিতে এখন সেটা হবে কিনা, নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একই অবস্থা কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সঙ্গেও। তিনটি আসনে ছাড় দেওয়া হলেও আরও একটি আসন চায় তারা। ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাগপাকে কোনো আসনেই ছাড় দেওয়া হয়নি। এজন্য তারাও ক্ষুব্ধ। বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রমতে, বিশ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতকে ১৯টি আসনে চূড়ান্তভাবে ছাড় দেয় বিএনপি। সে অনুযায়ী তাদের হাতে চিঠিও তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু জামায়াত এখানেই আপত্তি তোলে। প্রাথমিকভাবে জামায়াতকে ২৫টি আসনে ছাড়া দেওয়া হয়েছিল। সেঅনুযায়ি জামায়াত প্রস্তুতিও নেয়। সে অনুুুযায়ী একটি আসন বাদে বাকি ২৪টি আসনে জামায়াত প্রস্তুতিও নেয়।

জামায়াত সূত্র জানায়, সিলেট-৫ আসনে জামায়াতের পাশাপাশি জোটের শরিক জমিয়তে উলামা ইসলামকেও ছাড় দিয়ে চিঠি দেওয়া হয়। এছাড়া পিরোজপুর-১ আসনে দেলওয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র শামীম সাঈদীকে প্রার্থী না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি।

আসন বন্টনসহ এসব বিষয় নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সংকট দেখা দেয়। এরপরই জামায়াত শনিবার রাতে বৈঠক করে। ওই বৈঠকে জামায়াত নেতারা চিঠি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন করবে কিনা সেটা নিয়েও পর্যালোচনা করেন। এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে রাতে কেউ ফোন ধরেনি বলে সূত্র জানায়।

তবে ২০ দলের শরিক এলডিপি ৫, কল্যাণ পার্টি ১, এনপিপি ১, বিজেপি ১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২, কাজী জাফরের জাতীয় পার্টি ১ এবং ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে গণফোরাম ৭, জেএসডি ৫, নাগরিক ঐক্য ৫ আসনে নির্বাচন করবে।

জানা গেছে, জোট শরিকদের ছাড় দিতে গিয়ে লক্ষ্মীপুর-১ নাজিম উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে আশরাফ উদ্দিন নিজান, বরিশাল-৪ মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন। তিনজনই ২০০৮ সালে বিএনপির এমপি ছিলেন। ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে মনোনয়ন পাননি। সেখানে সুব্রত চৌধুরীক দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদকে বাদ দিয়ে নাগরিক ঐক্যের এসএম আকরাম ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া জোট শরিকদের সঙ্গে দেনদরবারের মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় বিএনপি সিলেট-১ আসনসহ বেশ কয়েকটি আসনের নাম ঘোষণা করেছে। সিলেটে-১ আবদুল মুকতাদিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বরগুনা-২ খন্দকার মাহবুব হোসেন, গাইবান্ধা-২ আবদুর রশিদ সরকার, পটুয়াখালী-২ শহীদুল আলম তালুকদার, ময়মনসিংহ-১ আলী আজগর, নারায়ণগঞ্জ-১ কাজী মনির, কুমিল্লা-৬ হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন, জামালপুর-১ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, নেত্রকোনা-৫ আবু তাহের তালুকদার, চাঁদপুর-৩ শেখ ফরিদ উদ্দিন মানিক মনোনয়ন পেয়েছেন।

জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে মনোনয়নের দাবিদার ছিলেন ইনাম আহমেদ চৌধুরী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাদ দিয়ে মুকতাদিরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। ধারণা করা হচ্ছে মুকতাদির মনোনয়ন পাওয়ায় প্রয়াত সাইফুর রহমান ও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর গ্রুপ তার বিরোধিতা করবে। বরগুনা-২ আসনে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়ায় আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হলো নিশ্চিত এমনটি বলছেন নেতাকর্মীরা। কারণ সাবেক এমপি নুরুল ইসলাম মনি একাধিকবার এমপি। খন্দকার মাহবুব হোসেন ৪-৫ বার পরাজিত হয়েছেন।

যে সব আসন জামায়াতকে দিতে চায় বিএনপি : দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ মাওলানা ইকবাল হুসাইন, ঝিনাইদহ-৩ অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদাত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ অধ্যাপক আবদুল আলীম, খুলনা-৫ অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ মুফতি রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ শামীম সাঈদী, ঢাকা-১৫ ডা. শফিকুর রহমান, সিলেট-৬ মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ আ ন ম শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আযাদ।

নাগরিক ঐক্য : বগুড়া-২ মাহমুদুর রহমান মান্না, নারায়ণগঞ্জ-৫ এসএম আকরাম, রংপুর-১ শাহ মো. রহমাতুল্লাহ, রংপুর-৫ মোফাখখারুল ইসলাম, বরিশাল-৪ জেএম নুরু রহমান।

গণফোরাম : ঢাকা-৭ মোস্তফা মহসিন মন্টুু, হবিগঞ্জ-১ রেজা কিবরিয়া, মৌলভীবাজার-২ সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, পাবনা-১ অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ময়মনসিংহ-৮ খালেকুজ্জামান, কুড়িগ্রাম-২ মেজর জেনারেল (অব) আমসা আমিন। ঢাকা-৬ আসনটি গণফোরাম তার নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর জন্য চাচ্ছেন। অন্যদিকে বিএনপি চাচ্ছেন ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ইশরাক হোসেনের জন্য। এই আসন নিয়ে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

জেএসডি : লক্ষ্মীপুর-৪ আ স ম আবদুর রব, কুমিল্লা-৪ আবদুল মালেক রতন, কিশোরগঞ্জ-৩ ড. সাইফুল ইসলাম, ঢাকা-১৮ শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, শরীয়তপুর-১ নুরুল ইসলাম।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ : টাঙ্গাইল-৮ ব্যারিস্টার কুঁড়ি সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৪ লিয়াকত আলী, গাজীপুর-৩ ইকবাল সিদ্দিকী। টাঙ্গাইল-৩ আসনটিও চান বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। এটা নিয়েও তাদের দরকষাকষি চলছে।

পিপিবি : রংপুর-৩ রিটা রহমান।

এলডিপি : চট্টগ্রাম-১৪ কর্নেল (অব) অলি আহমদ, চট্টগ্রাম-৭ মো. নুরুল আলম, কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ শাহাদাত হোসেন সেলিম, ময়মনসিংহ-১০ সৈয়দ মাহমুদ মোর্শেদ।

কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫ মনোনয়ন পেয়েছেন।

বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা-১৭,

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি ওয়াক্কাসকে যশোর-৫, শাহিনূর পাশাকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে আর আব্দুল বাসিদ আজাদকে হবিগঞ্জ-২-এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

খেলাফত মজলিসের আহমেদ আব্দুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসনে এবং উবায়দুল্লাহ ফারুক সিলেট-৫ থেকে জমিয়তের প্রার্থী হয়েছেন।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post