অপহরণ নয়, পরকিয়ার টানে ভারতে গিয়েছিলেন মনিকা বড়ুয়া

আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০১৮ ৩:৪৭ অপরাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম


চট্টগ্রাম | ০৮ নভেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ০৩:৪৫ পিএম |

চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানা লালখান বাজার এলাকা থেকে দীর্ঘ ৭ মাস পর সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী মনিকা বড়ুয়া রাধা (৪৫) উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে অপরহরণ নয়, পরকিয়ার টানে তিনি ভারতের নাগরিক কমলেশ কুমার মল্লিক (৩৫) নামে ব্যবসায়ীর সঙ্গে কলকাতায় পালিয়ে যান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

সংবাদ সম্মেললনে আমেনা বেগম জানান, অপহরণ নয়, নিজের ইচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে নিখোঁজ সঙ্গীত শিক্ষক মনিকা বড়ুয়া রাধা। শুধু তাই নয়, সেখানে গিয়ে বিয়ে করে নাম বদলে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন তিনি।

আরো জানায়, ভারতের নাগরিক ব্যবসায়ী কমলেশ কুমার মল্লিক (৩৫) এর সঙ্গে মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় মনিকা বড়ুয়া রাধার। পরিচয় প্রেমে রুপ নেয়। গত ১২ এপ্রিল শ্যামলী পরিবহনের গাড়িতে মনিকাকে নিয়ে বেনাপোল সীমান্তে যান কমলেশ। পাসপোর্ট ও ভিসা না থাকায় সেখানে অবৈধভাবে তাকে সীমান্তের ওপারে ভারতে নিয়ে যান। পরে কলকাতায়ে একটি মন্দিরে বিয়ে করেন তারা। এরপর সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে সংসার শুরু করে। মনিকা নাম বদলে নেন অনামিকা মল্লিক। স্বামীর সূত্রে স্থানীয় আধার কার্ডও পান তিনি।

এদিকে, মনিকা বড়ুয়া সাংবাদিকের স্ত্রী হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বসহ নিয়ে তদন্তের নামেন পুলিশের একদল চৌকস টিম। তদন্তের সূত্র ধরে কমলেশের খোঁজ পান। ৩ নভেম্বর ব্যবসার কাজে বাংলাদেশে এসেছেন তিনি। পরে গত ৪ নভেম্বর ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে কমলেশের মাধ্যমে কৌশলে মনিকা বড়–য়াকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ৬ নভেম্বর বাংলাদেশে আনা হলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত ১২ এপ্রিল লালখান বাজারের হাই লেভেল রোডের বাসা থেকে গান শেখানোর জন্য বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তিনি চট্টগ্রামের সাংবাদিক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবুর স্ত্রী। এ বিষয়ে দেবু গত ১৩ এপ্রিল মহানগরের খুলশী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপরহরণ মামলা দায়ের করেন তিনি। মনিকা বড়ুয়ার দুই মেয়ে। তিনি নগরের কাতালগঞ্জের লিটল জুয়েলস স্কুলে গানের শিক্ষক ছিলেন।

মহানগর অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম আরো বলেন, মনিকা বড়–য়া অপহরণ হয়েছেন অভিযোগ করে পরে মামলাও করেন তার খোঁজ পেতে তার বোনেরা। তারা এতোদিন মানববন্ধন করেছেন, এটা মনিকাও জানতেন। ভারত থেকে বোনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন তিনি। এমনকি বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দুই মেয়েকে বলেও যান মনিকা। কিন্তু পুরো বিষয়টি পুলিশের কাছে গোপন রাখেন সবাই।

তিনি বলেন, মনিকা বড়ুয়া পুলিশকে জানিয়েছেন, অপহরণ নয়, তিনি স্বেচ্ছায় ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু তার খোঁজে অপহরণ মামলা হয়েছে, সেহেতু মনিকা বড়ুয়া এখন পুলিশের কাছে ভিকটিম। একইসঙ্গে তিনি একজন আসামি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত উপ কমিশনার উত্তর মো. কামরুজ্জামান।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post