চবিতে সংঘর্ষ, ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি মামলা

আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০১৮ ১২:৩৪ অপরাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট । সিটিজিসান.কম

ছবি: সংগৃহিত

চট্টগ্রাম | ০৪ নভেম্বর ২০১৮, রোববার, ১১:২০ এএম |

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর রাতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। এতে উভয় পক্ষের মোট ১৯জন কে আসামী করা হয়।

শনিবার (০৩ নভেম্বর) রাতেই এই মামলা দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর।

জানা গেছে- কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ‘সিএফসি’ পক্ষে মো. আল-আমিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করে।

মামলার আসামী করা হয়- চারুকলা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের আনোয়ার হোসেন শুভ, মার্কেটিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শ্রাবন মিজান, আইন বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের মিজান শাইখ, বন ও পরিবেশবিদ্যা ইন্সটিটিউটের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের সাঈদ করিম মুগ্ধ, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শাহিব তানিম, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আল আমিন শান্ত, আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ফোরকানুল আলম এবং পদার্থবিদ্যা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শফিকুল ইসলাম শাওন। এরা সবাই চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

অপরপক্ষে, চসিক মেয়র আ জ ম নাছিরের অনুসারীরা হিসেবে পরিচিত এই মামলা দায়েরের পর পাল্টা আরেকটি ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা দায়ের করেন ইংরেজী বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আবু হেনা রনি। এতে অজ্ঞাত ৩ জন সহ মোট ১৪জন কে আসামী করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার আসামী করা হয়- জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান রাফি, সমাজতত্ত¡ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মো. আল-আমিন ভূঁইয়া, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইমরান হোসেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কনক সরকার, পরিসংখ্যান ১১-১২ পিয়াস সরকার, আইন বিভাগ ১৪-১৫ মির্জা খবির সাদাফ, সমাজতত্ত¡ ১৫-১৬ আরিফুল ইসলাম, লোক প্রশাসন ১৫-১৬ প্রান্ত মল্লিক, সংস্কৃত ১৩-১৪ স›দ্বীপ বিশ্বাস, রাজনীতি বিজ্ঞান ১৫-১৬ মোহন খান এবং একই বর্ষের আরবী বিভাগের অলি উল্লাহ। এরা সবাই নওফেলের অনুসারী ‘সিএফসি’ হিসেবে পরিচিত।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহসভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের জামান নূর বলেন- গতকাল রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। যারা অন্যায়ভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, চসিক মেয়র আ জ ম নাছির পক্ষের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি মনসুর আলম বলেন- সংঘর্ষে আমাদের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছে। তাই আইনের আশ্রয় নিয়েছি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (০১ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মধ্যে বগি ভিত্তিক ফের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় ১১ জন আহত হয়। তাৎক্ষনিক তাদেরকে চট্টগ্রাম মহানগর মেডিক্যাল সেন্টারে পাঠানো হয়। ঘটনার পর চবি পুলিশ ফাঁড়ির ফোর্স গিয়ে ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের মধ্যে ছত্রভঙ্গ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post