পারকিতে ইয়াবাকারবারী-পুলিশ কর্মকর্তার ভুড়িভোজ!

আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০১৮ ৭:০৩ অপরাহ্ন

করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

খাবার শেষে সহকারী কমিশনার (এসি) আবদুল মাবুদের সঙ্গে সেলফি, পেছনে ইয়াবাব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন শাহ (লালশার্ট পরিহিত)। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম: পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত ইয়াবাকারবারী এবং পুলিশের ওপর হামলার অন্যতম আসামি মো. জালাল উদ্দিন শাহ (৩৭)। তিনি চট্টগ্রামের আনোয়ারা পারকিচর এলাকার শেখ মুহাম্মদ শাহ’র ছেলে।

তার বিরুদ্ধে মহানগরের পতেঙ্গা থানা, কর্ণফুলী ও চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় মাদকসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানান আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানার দায়িত্বরত ডিউটি অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানা পুলিশ যৌথ অভিযানে শীর্ষ ইয়াবাব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন শাহকে (৩৭) ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর পারকি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এঘটনায় ওইদিন প্রায় দু’শতাধিক পুলিশ সদস্য এ অভিযানে অংশ নিয়েছিল বলে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী থানার পুলিশ জানায়।

এরপর কিছুদিন জেল কেটে বেরিয়ে আবারও জড়িয়ে পড়ে ইয়াবাব্যবসায়। আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় গড়ে তোলেন ইয়াবার সাম্রাজ্য। একের পর পর জালাল অভিযোগের খ্যাতি পান ইয়াবাসম্রাট হিসেবে।

এদিকে, পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সুত্রে জানায়- মো. জালাল উদ্দিন শাহ একজন পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদকব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মহানগর ও উপজেলাতে বেশকয়েকটি মামলা রয়েছে। প্রতিদিন মাদক ব্যবসায়ী যেখানে গ্রেপ্তার হচ্ছেন সেখানে মো. জালাল শাহ নামের ইয়াবাব্যবসায়ীর সাথে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানার পারকি রিসোর্টে ভুড়িভোজে লিপ্ত হয়েছেন মহানগরের পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবদুল মাবুদ।

সুত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি বিচে ‘পারকি’ নামে একটি রিসোর্ট রয়েছে তার। প্রশাসনকে মাসোহারা দিয়ে এই রিসোর্টটিতে দিনে-রাতে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। চলে ইয়াবা ও মদের আসর। এই রিসোর্টেই গত শুক্রবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সিএমপির সহকারী কমিশনার আবদুল মাবুদসহ কয়েকজন পুলিশকে ভূড়িভোজের আমন্ত্রণ জানান জালাল শাহ। ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মামলার আসামী জেনেও সেই আমন্ত্রণ উপেক্ষা করতে পারেননি। সাদরে তা গ্রহণ করে অংশ নেন সেই ভূড়িভোজে।

এদিকে, দুটি ছবিতে দেখা যায়- ভোজন শেষে ইয়াবাব্যবসায়ী জালালের তোলা সেলফিতে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায় পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে। এসময় পুলিশের পোশাকে থাকা সহকারী কমিশনার আবদুল মাবুদের ব্যাজ ঝুলে থাকতেও দেখা যায়।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে জনগণের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ছবিটি দেখে স্থানীয় এক আ’লীগ নেতা বলেন- বর্তমান সরকার যেখানে মাদক ও ইয়াবাকারবারীদের নিশ্চিহ্ন করতে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছে সেখানে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এহেন আচরণ খুবই দুঃখজনক।

এ বিষয়ে মহানগরের পুলিশের সহকারি কমিশনার (অপরাধ) আবদুল মাবুদ বলেন, সেদিন পারকি বিচে প্রতিমা বিসর্জনের ডিউটি ছিলাম। আমরা সিইউএফএল’র রেস্ট হাউজে দুপুরের খাবার খাওয়ার কথা ছিল। আমার সঙ্গে থাকা কর্ণফুলী থানার অফিসাররা বললেন- রেস্ট হাউজে নয়, পারকি রিসোর্টে খাবারের ব্যবস্থা হয়েছে। তাদের কথামতো সেখানে খেতে যাই।

তিনি আরো বলেন, যার কথা বলছেন (জালাল উদ্দিন শাহ) আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। ইদানিং যেখানে যাই একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে পরিচিতি-সবাই মোবাইলে সেলফি তোলেন। যদি জানতাম তাহলে জালাল শাহ’র রিসোটে খেতে যেতাম না, ছবিও তোলা হতো না। যা হয়েছে আমার অজান্তে। এজন্য আমি দুঃখিত।

সিএস/সিএম/এসআইজে

Print This Post Print This Post