নগরে নবম শ্রেনীর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | সিটিজিসান.কম

চট্টগ্রাম: মহানগরের পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী এলাকায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে জিম্মি করে ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত ধর্ষক ও তাকে সহায়তার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. শামীম (২৯) ও সানজিদা চৌধুরী (২২)। শামীমের বাসা খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) গভীর রাতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনা পরিবারে জানাজানির পর শনিবার রাতে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন ওই ছাত্রী।

সানজিদার বাসা পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী ফইল্যাতলী কলেজ রোডে সেলিম সাহেবের ভবনের পঞ্চম তলায়। কাছাকাছি এলাকায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাসা এবং স্থানীয় একটি স্কুলে ১৫ বছর বয়সী মেয়েটি পড়ালেখা করে। তার বাবা প্রবাসী। মা ও ছোট বোন থাকেন বাসায়।

এবিষয়ে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ বলেন, সানজিদা এবং ধর্ষিতা ছাত্রীর পরিবার আগে একই ভবনে থাকত। তিন মাস আগে তারা অন্যত্র বাসা ভাড়া নেয়। ওই ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে সানজিদার পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।

ওসি জানান, গত বৃহস্পতিবার সানজিদা বিয়ের দাওয়াতে যাবার কথা বলে ওই ছাত্রীর মাকে রাজি করিয়ে তাকে সঙ্গে নেয়। যাবার সময় পথে হঠাৎ অসুস্থবোধ করার কথা বলে মেয়েটিকে নিয়ে আবার বাসায় ফিরে আসে সানজিদা।

এসময় শামীমকে ফোন করে বিরিয়ানি নিয়ে বাসায় আসার কথা বলে। শামীম রাত ১০টার দিকে বিরিয়ানি নিয়ে বাসায় আসে। তিনজন মিলে খাওয়া-দাওয়া করে। মেয়েটি যখন তার বাসায় ফিরে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন শামীম তাকে জোরপূর্বক একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় আরেকটি কক্ষে সানজিদা ছিলেন।

ওসি বলেন, সানজিদা ও শামীম পূর্বপরিচিত। টাকার বিনিময়ে সানজিদা শামীমকে মেয়েটিকে ধর্ষণের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। গ্রেপ্তারের পর সানজিদা প্রথমে বলেছিল, শামীম ধর্ষণের আগে তাকে আঘাত করলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারে, মেয়েটিকে ধর্ষণ করে শামীম পালিয়েছে। আসলে সানজিদার এই বক্তব্য পুরোপুরি মিথ্যা।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে- ধর্ষণের পর শামীম ও সানজিদা মিলে তাকে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি তাকে সারারাত ওই বাসায় আটকে রাখা হয়। পরদিন (১২ সেপ্টেম্বর) বাসায় ফিরে ওই ছাত্রী।

বাসায় ফিরে মায়ের কাছে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বলার পর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে শনিবার রাতে মেয়েটি তার মাকে নিয়ে থানায় যায় বলে জানান ওসি। অভিযোগ পাবার পর সানজিদাকে তার বাসা থেকে এবং শামীমকে ঝাউতলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি সদীপ কুমার দাশ।

সিএম/সিএস

Print This Post