চট্টগ্রামে আ’লীগ-বিএনপি’র যারা চূড়ান্ত প্রার্থী পর্যায়ে

আপডেট: ৯ অক্টোবর ২০১৮ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট । সিটিজিসান.কম
চট্টগ্রাম:
মাত্র কয়েক মাস বাকি একাদশ জাতীয় সংসন নির্বাচনের। এরমধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ করে ফেলছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রার্থীবাচাই মাঠভিত্তিক রিপোর্ট এবং সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা রির্পোটের ওপর নির্ভর করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর তালিকা তৈরি করা হয়েছে। চূড়ান্তÍ প্রার্থীর তালিকা একান্ত প্রধানমন্ত্রী ছাড়া কেউ অবগত নন। এমনি এটি দলীয় সংসদীয় বোর্ডের সভায় উত্থাপিত হয়নি। অচিরেই অনুমোদনের জন্য প্রার্থী তালিকাটি উত্থাপন করা হবে বলে হাইকমান্ড সূত্র জানিয়েছে।

এছাড়া, আওয়ামী লীগ এককভাবে নির্বাচন করলে এক ধরনের প্রার্থী তালিকা, জোটগতভাবে নির্বাচন করলে এক ধরনের তালিকা আবার মহাজোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে আরেক ধরনের প্রাথী তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বিএনপি’র আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া-না নেয়ার এবং শরীকদের কিছু আসনের ছাড় দেয়ার ওপর নির্ভর করছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকার যোগ-বিয়োগের বিষয়টি। তবে এ মুহূর্তে দলীয় হাইকমান্ড মনে করছেন, বিএনপি নির্বাচনের অংশ নেবে এটা মোটামুটি নিশ্চিত প্রায়ই। বিএনপিকে মোকাবেলার দৃষ্ঠিভঙ্গি থেকেই প্রার্থীর মনোন্নয়ন চূড়ান্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।

এদিকে ৩০০ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তÍ করার কাজ অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে আওয়ামী লীগ। দেশি ও বিদেশি একাধিক সংস্থার মাধ্যমে জরিপ, রাজনৈতিক মাঠে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন, গত দশ বছরে মাঠে-ময়দানে দায়িত্ব পালনে অপরিপক্বতা এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের সূত্রে বেশ কয়েকজন সংসদ সংসদের মনোনয়ন অনিশ্চিত হয়েছে।

এখনো পর্যন্ত ১৫১ আসনের প্রার্থী চূড়ান্তÍ করে তাদের সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি আসনের চূড়ান্ত বিবেচনায় রয়েছে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক এই প্রসঙ্গে জানান, যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে জরিপের কাজ এখনো চলছে। সবকটি জরিপ ও গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট নিয়ে ‘হোমওয়ার্ক’ করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে সময়মতো দলীয় হাইকমান্ড বোর্ডে আলোচনা করে প্রার্থী ঠিক করা হবে।

যারা চূড়ান্ত পর্যায়ে সবুজ সংকেত পেয়েছেন- চট্টগ্রাম-১ ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-৩ মাহফুজুর রহমান মিতা, চট্টগ্রাম-৬ এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-১০ আফসারুল আমিন, চট্টগ্রাম-১১ আব্দুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ সামশুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, চট্টগ্রাম-১৪ আবু রেজা নিজাম উদ্দিন নদভী, কক্সবাজার-৩ সাইমুম সরওয়ার কমল, পার্বত্য বান্দরবানে বীর বাহাদুর উশৈ সিং ও রাঙ্গামাটিতে দীপঙ্কর তালুকদার। এছাড়া বাকি আসনের শীঘ্রই দলীয় হাইকমান্ড বোর্ডে আসনের প্রার্থী ঠিক করে জানানো হবে বলে জানান।

এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্তÍ করেছে বিএনপি। তবে এবারও শরীকদের কিছু আসন ছেড়ে, দলীয় প্রার্থীর মৃত্যু, বার্ধক্য, নিখোঁজ হওয়া, শৃঙ্খলাভঙ্গ, নিষ্ক্রীয়তা, বহিষ্কার কিংবা দলের বাইরে অবস্থানের কারণে বেশ কিছু আসনে প্রার্থী পরিবর্তন এনে তালিকা তৈরী করেছে দলটি।

২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা এতে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটছে। রাখা হয়েছে একেবারে নতুন মুখ। ইতোমধ্যে চুড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়াদের আংশিক নাম পাওয়া গেছে। তার মধ্যে চট্টগ্রামের আসনে বেশ কয়েকজনকে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করেছে। তবে শরীকদের কারণে পরে যোগ-বিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী নির্বাচনে প্রার্থী চুড়ান্ত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, মাঠে পর্যায়ে তৃনমূল সংঠনের বিবেচনায় প্রতিটি প্রার্থী মনোনয়ন ঠিক করা ইতিমধ্যে চূড়ান্তÍ হয়ে গেছে দলীয় হাইকমান্ড বোর্ডে। শরীকদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দলীয় কিছু আসন যোগ-বিয়োগও হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্মতিতে।

এদের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন- চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নতুন প্রার্থী কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহসম্পাদক জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী। এর আগে এই আসনের সাংসদ ছিলেন মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত আসামী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম সিটির ৯, ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে বিএনপি’র যুগ্ন মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-সিটির ১ ও ২ ওয়ার্ড) আসনে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মীর মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস কাদের চৌধুরী। চট্টগ্রাম-৮ (শ্রীপুর-বোয়ালখালী থানা আংশিক-সিটির ৩, ৪, ৫, ৬ ও ৭ন নম্বর ওয়ার্ড) আসনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোর্শেদ খান। চট্টগ্রাম-৯ (বাকলিয়া) মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ডা. শাহদাত হোসেন। চট্টগ্রাম-১০ (সিটির ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ২৪, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রাম-১১ (সিটির ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এছাড়া, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহম্মদ। কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি শাহজান চৌধুরী। খাগড়াছড়ি আসনে সাবেক এমপি ও জেলার সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।

সিএস/সিএম

Print This Post Print This Post