রোহিঙ্গা ইস্যু: জাপানি গণমাধ্যমের কাছে অং সুচি’র সাফাই!

আপডেট: ১০ জুন ২০১৮ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন

অনলাইন ডেস্ক :
সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক :: রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মিয়ানমার সরকার বিদেশি আইন বিশেষজ্ঞসহ অন্যদের পরামর্শ নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্টেট কাউন্সিলর তথা কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান অং সান সুচি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার জাপানি গণমাধ্যম আশাহি শিম্বুনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সুচি এসব কথা বলেন।

মিয়ানমার কীভাবে শরণার্থী ও আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জন করবে—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সু চি বলেন, ‘আস্থা দুই পক্ষের ব্যাপার। আস্থা তৈরির বিষয়টি কেবল মিয়ানমারের ওপর নির্ভর করে বলে আমার মনে হয় না। অপর পক্ষকেও আস্থা তৈরির জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী আমরা ফরম দিয়েছিলাম শরণার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য, যেগুলো পূরণ করে দেওয়া কথা। কিন্তু সেভাবে ফরমগুলো বিতরণ করা হয়নি। ফরমগুলো বিতরণ করা না হলে এবং শরণার্থীরা আইনসম্মত ও বৈধ উপায়ে রাখাইনে ফেরার উপায় না জানলে আমরা দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারব না।

মিয়ানমারে ফেরত গেলে আবার হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না-এ বিষয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদেরকে সব নাগরিকদেরই নিরাপত্তা দিতে পারতে হবে, বিশেষ করে স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে। সে জন্য আমরা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ওপর জোর দিচ্ছি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।’

জাতিগত সমস্যাগুলোর সমাধানে তার সরকারের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনা কুড়িয়েছে- এ ব্যাপারে সু-চি বলেন, ‘একটা ঘটনাকে এক এক দিক থেকে দেখা যায়। তারা তাদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। আমাদের অনুধাবন তাদের চেয়ে ভিন্ন।’

রাখাইনের বৌদ্ধ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে সেখানে শান্তি ‘রাতারাতি’ অর্জন করা সম্ভব নয় বলেও জানান সু-চি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনে গত বছরের আগস্ট থেকে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিপীড়নকে গণহত্যা আখ্যা দিয়েছে জাতিসংঘ।

সংস্থাটি মনে করে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে যে পরিবেশ দরকার তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মিয়ানমারের। কিন্তু এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও স্থায়ীভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের দেশ মনে করলেও, মিয়ানমার তাদেরকে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি দেয়নি।
সর্বশেষ দেশটি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার সঙ্গে একটি সমঝোতা করেছে। ওই সমঝোতায় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের বসবাসের এলাকা এবং যেখানে তার ফিরে যেতে চায়, সেসব এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। যাতে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারা যায়।

Print This Post Print This Post