চট্টগ্রামে পিএইচপির জায়গা দখলের অভিযোগ

আপডেট: ৩০ মার্চ ২০১৮ ৮:১০ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের কুমিরায় দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী পিএইচপি পরিবারের জায়গা দখলের অভিযোগ ওঠেছে একটি রড নির্মাণকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) পিএইচপির ফ্লোট গ্লাস কারখানার পাশে গড়ে তোলা ১৬০ একর আয়তনের বনায়নে প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় ওই কোম্পানিটি।

‘বিরোধপূর্ণ’ হিসেবে বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারে অভিযোগ জমা রয়েছে। কিন্তু এটি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই জায়গাটি গায়ের জোরে দখল করেছে ওই কোম্পানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ফ্লোট গ্লাসের পাশ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের ধারে প্রায় ১৬০ একর জায়গায় বনায়ন করেছে পিএইচপি। এই বনায়নের মধ্যে ৫ একর জায়গায় দেশের বিলুপ্তপ্রায় বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য বিশেষ একটি প্রকল্প (আরবোরেটম) রয়েছে।

যা দেশের আর কোথাও নেই। এছাড়া এই বনায়নে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সেগুন, মেহগনি, গর্জন, গামারি, চাপালিসসহ নানা গাছ-গাছালি। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ করে সেই জায়গায় যাওয়ার প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয় ওই রড প্রস্তুতকারী কোম্পানি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বনের গাছপালার পরিচর্যা করা না গেলে হুমকির মুখে পড়তে পারে বিলুপ্তপ্রায় বনজ সম্পদ রক্ষার এই কার্যক্রম। জায়গাটির মালিকানা নিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারে মৌখিক অভিযোগ করেছে কোম্পানিটি।
তবে এই বিষয়ে সুরাহা হওয়ার আগেই তা দখল করে নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিএইচপির মহাব্যবস্থাপক (এস্টেট) আমির হোসেন বলেন, আমাদের জায়গায় প্রবেশের পথটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই জায়গাটি রেলওয়ের কাছ থেকে লিজ নিয়েছে পিএইচপি।

তবে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রড প্রস্তুতকারী ওই কোম্পানির একজন ডিজিএম বলেন, সকল বৈধ ডকুমেন্ট অনুযায়ী এটি আমাদের জায়গা। এটির সীমানা খুঁটি নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় খুঁটি বসানোর কাজ করা হয়েছে।

জানা যায়, রেল লাইনের পাশে অব্যবহৃত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেই সুবাদে রেলওয়ের জায়গায় বনায়ন হলে পরিবেশেরও উন্নয়ন হয়। কারণ দেশের আয়তনের তুলনায় মাত্র ১১ শতাংশ বনভূমি রয়েছে।

কিন্তু থাকা দরকার ২৫ শতাংশ। এভাবে পরিবেশের স্বার্থে বনভূমি সৃষ্টির মাধ্যমে বনায়নের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন। তাই পরিবেশের স্বার্থেই এসব বনায়ন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। সুত্র : বাংলানিউজ

Print This Post Print This Post