প্রি-পেইড মিটারে পূর্বের টাকা ফেরত দিচ্ছে না পিডিবি

আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ ৪:৪০ অপরাহ্ন

free paid mitre

চট্টগ্রাম : কথা ছিলো নতুন করে প্রি-পেইড মিটার সংযোগ দিলেই গ্রাহকদের ফেরত দেয়া হবে মিটারের চেয়ে বিলে বেশি করা ইউনিটের টাকা। প্রি-পেইড মিটার পেয়েছে ঠিকই কিন্তু গ্রাহকদের কাছ থেকে আগে নেয়া বেশি ইউনিটের টাকা ফেরৎ দেয়নি পিডিবি। চট্টগ্রামে ভুয়া ও অনুমান নির্ভর বিল করে গ্রাহকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হয় কোটি কোটি টাকা বলে অভিযোগ গ্রাহকদের। এদিকে স্বচ্ছতা আনতে বিদ্যুৎ বিল আর কার্ডের বিষয়টি জনসম্মুখে পরিস্কার করার দাবি ক্যাবের।

চট্টগ্রাম নগরীর কল্পলোক আবাসিকের সিরাজ ভিলায় মিটার আছে ১২টি। এর মধ্যে ৯টিতেই মিটারের চেয়ে বিলে ইউনিট এসেছে বেশি। ১১ নম্বর মিটারে নভেম্বর পর্যন্ত দুই হাজার ৮’শো ২৮ ইউনিট আসলেও ১ হাজার ৯২ ইউনিট বেড়ে বিলে এসেছে তিন হাজার ৯’শো ২০ ইউনিট। আর ১ নম্বর মিটারে ৯’শো ৩৬ ইউনিট আসলেও বিলে এসেছে ১৩শো ৬০ ইউনিট। কথা ছিলো প্রি-পেইড মিটার দিলে ৯টি মিটারে পিডিবি বাড়তি নেয়া ৫ হাজার ইউনিট তথা ৪০ হাজার টাকা ফেরৎ দেবে। প্রি-পেইড মিটার দিয়েছে ঠিকই কিন্ত ৪০ হাজার টাকা ফেরত দিতে রাজি নয় বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ অফিস।

ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার কাছে সব ডকুমেন্ট আছে। প্রায় পাঁচ হাজারের মতো বাড়তি। এরা কিন্তু সরকারকে জিরো দেখিয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো, এই টাকাটা কোথায় গেছে?’

একই অবস্থা আবাসিকের ডিসি ভবনের বিভিন্ন মিটারের। নভেম্বর পর্যন্ত শুধু ২টি মিটারে ৪ হাজার দুশো ৮৫ ইউনিট বেশি এসেছে বিলে। বিদ্যুৎ অফিসের সাথে বারবার দেখা করেও কোন সুরাহা হয়নি।

এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘২৮ হাজার ৩শ’ টাকা বিল এসেছে আর উনি লিখে দিয়েছেন ৩১ হাজার ৩শ’। এটা তো উচিৎ না। উনারা বলে আপনাদের আমরা পরে ঠিক করে দিবো।’

বাকলিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ অফিসে গেলে কেউ এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে বিতরণ সংস্থা দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন জানালেন, গ্রাহকরা সঠিক সময়ে অভিযোগ করলে সমস্যা সমাধান করবেন তারা।

তিনি বলেন, ‘কোন মিটারে রিডিং যদি বেশি থাকে তাহলে ওই গ্রাহক যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন তবে অবশ্যই এগুলো আমরা অ্যাডজাস্ট করে দেই। তবে এখানে আমাদের একটু সমস্যা থাকে, গ্রাহক যদি আগেই অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করে থাকেন এবং ব্যাংকে পরিশোধ হয়ে যাবার পরে আমাদের আর সংশোধনের সুযোগ থাকে না।’

জনগণের কাছে বিদ্যুৎ বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি বিষয়টি আরো খোলাসা করার দাবি জানিয়েছে মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাব।

সংগঠনটির সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় একটা কমিটি আছে। সেখানে বিষয়গুলো বেশ কয়েকবার আমর উত্থাপন করেছি। বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যক্রম এবং এর সাথে জনগণের সম্পৃক্ততা এবং তাদের জবাবদিহিতার বিষয়টিকে আরও একটু স্বচ্ছ করা দরকার।’ পিডিবি বিতরণ সংস্থা দক্ষিণাঞ্চলে ২১টি ডিভিশন অফিসে গ্রাহক সংখ্যা ৯ লাখের বেশি।

Print This Post Print This Post