মালয়েশিয়ায় স্কুলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৫

agun

অনলাইন ডেস্ক : মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি আবাসিক কোরআন শিক্ষা কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে কুয়ালালামপুরের প্রাণ কেন্দ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দোতলা স্কুল ভবনের ওপর তলায় এ অগ্নিকাণ্ড হয়। নিহতদের মধ্যে ২৩ জনই ছাত্র। তারা ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী। বাকি দুজন মাদরাসা বোর্ডিংয়ের ওয়ার্ডেন (তত্ত্বাবধায়ক) ছিলেন।

ফায়ার সার্ভিসের বিবৃতিতে বলা হয়, ভোরে ‘তাহফিজ দারুল কোরআন ইত্তিফাকিয়াহ’ নামে কোরআন শিক্ষার স্কুলটিতে আগুন লাগে।

কুয়ালালামপুর ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধার বিভাগের পরিচালক খিরুদিন দ্রাহমান বলেন, আগুনে ২৩ শিক্ষার্থী ও দুই ওয়ার্ডেনের (তত্ত্বাবধায়ক) মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, তারা ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে কিংবা আগুনে আটকা পড়ে মারা যেতে পারে। আমি মনে করি, এটি ছিল গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড। এ মুহূর্তে আমরা আগুনের কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি।

স্কুলটি টানানো এক বিজ্ঞপ্তিতে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে আহত সাতজনকে উদ্ধার করে নিকটতম একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় ‘তাহফিজ স্কুল’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত মাদরাসা। এতে সাধারণত ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা কোরআন শিক্ষা নেয়।এ মাদরাসাগুলো ধর্মবিষয়ক অধিদফতরের নিয়ন্ত্রণাধীন। দেশটিতে ৫১৯ মাদরাসা নিবন্ধিত হলেও অনিবন্ধিত ও প্রাইভেট মাদরাসার সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করা হয়।

মালয়েশিয়ায় এসব মাদরাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় সময়েই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে প্রাণহানিও হয়। ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০০ অগ্নিকাণ্ড হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার ফায়ার ও উদ্ধার বিভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করে। এর অংশ হিসেবে কোরআন শিক্ষার মাদরাসাগুলোকেও নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়। তবে এ পর্যন্ত ২১১ প্রতিষ্ঠান এ নিবন্ধিত হয়েছে। সূত্র : বিবিসি, এএফপি ও স্ট্রেইটস টাইমস

Print This Post