রাজনৈতিক জীবনে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা দেখিনি: খসরু

আপডেট: ১৮ জুন ২০১৭ ৩:১৬ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম : পাহাড়ধসে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য রাঙামাটি যাওয়ার পথে হামলায় শিকার হয়েছেন বিএনপি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। হামলায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরীসহ ৫ জন আহত হয়েছেন।

আজ রোববার সকাল ১০ টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার গোছরা এলাকায় হামলা হয় বলে জানা গেছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ সরকার দলের ক্যাডাররা এ হামলা চালিয়েছে।

এদিকে হামলার কারণে রাঙামাটি যেতে না পেরে নগরীতে ফিরে আসছে দলের মহাসচিব, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিএনপির প্রতিনিধি দল।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাঙামাটি যাওয়ার পথে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার গোছরা এলাকা পার হওয়ার পর আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, পাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে আমাদের গাড়ি ভাংচুর করে।

হামলায় দলের মহাসচিব, আমিসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছি। হামলা এবং বাধার কারণে রাঙামাটি না গিয়ে নগরীতে ফিরে আসছেন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, জীবনের নিরাপত্তা না থাকায় আমরা রাঙামাটি যাইনি। রাজনৈতিক জীবনে এমন ন্যাক্কারজনক হামলা প্রত্যক্ষ করেননি মন্তব্য করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এমন হামলা হবে। দেশের রাজনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে বিশ্বাস করতে পারছি না।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নের্তৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী মিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান রুহুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিষয়ক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ফাওয়াজ হোসেন শুভ, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক মানবন্দরে পৌঁছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বের প্রতিনিধি দল।

সকাল সাড়ে ৮টায় বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে রাঙা্মাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন তারা। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর পাজেরো গাড়িতে উঠেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী ও মাহবুবু রহমান শামীম।

এ ছাড়া আরও অন্তত ১০টি পাজেরো জিপ গাড়িতে করে রওয়ানা দেন প্রতিনিধি দলের সদস্য, নগর ও উত্তর জেলা বিএনপির নেতারা।

প্রতিনিধি দলের গাড়ি বহরের সামনে একটি গাড়িতে ছিলেন বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি এম এ আজিজ। তিনি বলেন, আমরা একটি জিপ গাড়িতে বহররের সামনে ছিলাম। গোছরা বাজার অতিক্রমের পর দেখি ৩০ থেকে ৪০ জন যুবক লোহার রড ও লাঠি নিয়ে হামলা করতে আসছে। এসময় আমরা গাড়ি দ্রুত ঘুরিয়ে দলের মহাসচিবকে বহনকারী গাড়ির চালককে গাড়ি ঘুরানোর কথা বলি। কিন্তু ততক্ষণে হামলা শুরু হয়ে যায়।

দলের মহাসচিব গাড়ির সামনের সিটে ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, তারা দলের শীর্ষ নেতাদের দেখে গাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, রুহুল আলম ও মাহবুবুর রহমান শামীম আহত হন। হামলাকারীরা বহরের অধিকাংশ গাড়িতে ভাংচুর চালিয়েছে বলেও জানান তিনি।

Print This Post Print This Post