চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ ২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার। এরইমধ্যে সকল প্র্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন প্রার্থীরা। তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নিয়ে চিন্তিত প্রার্থীরা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ১৪ ইউপির ১৩৫ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১০টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহিৃত করেছে প্রশাসন। ফলে ঝুঁকি এড়াতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শনিবার রাত থেকে বিজিবি টহল শুরু করেছে। আজ রবিবার থেকে র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ মাঠে নামবে।
দুই হাজার পুলিশ, দুই শতাধিক আনসার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। প্রতি ইউনিয়নে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্ট্রাইকিং ফোর্স টহল থাকবে।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ ফরিদ বলেন, ‘ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কাল (সোমবার) ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্স, কালিসহ ভোটগ্রহণের সকল সরঞ্জামাদি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
প্রথম দফায় ঘোষিত তফসিলের পর থেকে বাঁশখালীর নির্বাচন নিয়ে নানা ঘটন-অঘটন লেগে রয়েছে। নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর ও নতুন তফসিলের দাবিতে মামলার কারণে তিন দফায় নির্বাচন স্থগিত হয়েছিল।
চতুর্থ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এ নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে শঙ্কা-আতঙ্ক বিরাজ করছে। গত শুক্রবার পুকুরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি করেছেন সবাই। তবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন ও পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা সম্প্রতি প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বলেছিলেন, পাঁচস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ কিংবা ভোটবাক্সে হাত দিলেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। নির্বাচনে কোন ধরণের অস্ত্রবাজি চলবে না।
সূত্র জানায়, ১৪ ইউনিয়নে ১৩৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। তবে প্রশাসন ১১০ ভোটকেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভোটগ্রহণে পাঁচজন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ১৩৫ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ৭৫৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও এক হাজার ৫১২ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
চেয়ারম্যান পদে ৭২ জন, সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩১ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই লাখ ৭২ হাজার ৪৪০ জন ভোটার ভোটারাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৪১ হাজার ৯৮৮ জন ও মহিলা ভোটার এক লাখ ৩০ হাজার ৪৫২ জন। ভোটকক্ষ ৭৫৬টি।
নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৩২ ঘণ্টা আগে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আজ (রবিবার) মধ্যরাত (রাত ১২টা) থেকে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনী এলাকায় মোটরসাইকেল চলাচলও নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিক, নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, নির্বাচনের বৈধ পরিদর্শক এবং চিকিৎসা, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক, টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন চলাচল নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। কোন অবস্থাতেই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে ছাড় দেওয়া হবে না।
আচরণবিধির তোয়াক্কা না করেই প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রতিজন প্রার্থী একটি করে মাইকে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও কয়েকজন চেয়ারম্যান প্রার্থী একাধিক মাইকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বাঁশখালীর সবখানেই এখন ভোটের পরিবেশ। ভোট নিয়ে প্রার্থীদের যেমন আগ্রহ রয়েছে তেমনি ভোটারদের উচ্ছ্বাস রয়েছে। তবে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে ভোটার-প্রার্থী সবাই উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

