চট্টগ্রাম :: চট্টগ্রাম শহর ও উপজেলার বিভিন্ন সড়কে চলমান টমটম অবৈধ আগে থেকেই। এরপরও বন্ধ ছিল না এসব টমটম। এরমধ্যে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) টমটমের নতুন নামকরণ করে ‘টেম্পো’ হিসেবে নিবন্ধন দিচ্ছে।
রীতিমতো রেজিস্ট্রেশন নম্বর লাগিয়ে টমটম-সদৃশ ‘টেম্পো’ অবাধে চলাচল করছে নগরীর বিভিন্ন ভিআইপি সড়কে। ট্রাফিক বিভাগ অভিযোগ করেছে, আমদানিকারকের সাথে যোগসাজসের মাধ্যমে বিআরটিএ এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম চকবাজার থেকে নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, পতেঙ্গা, বহদ্দারহাট থেকে আন্দরকিল্লা-পতেঙ্গা, বোয়ালখালী, কাপ্তাই, মুরাদপুর থেকে রাঙামাটি সড়কসহ এমন কোন সড়ক নেই চলাচল করছে না টমটম। যা যানজটের শহরকে তীব্র যানজটের নগরে পরিণত করছে প্রতিনিয়ত। এসব টমটমের প্রায় প্রতিটিতে লাগানো হয়েছে বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন নম্বর।
নগর ট্রাফিকের বন্দর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ আবু সায়েম জানান, টমটম চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলে ‘টেম্পো’ নাম দিয়ে একই ধরনের গাড়ি রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে বিআরটিএ। এতে আরো বেপারোয়া হয়ে উঠেছেন টমটমের মালিকরা। কিছু গাড়ি আমরা আটক করেছিলাম। রেজিস্ট্রেগন নম্বর সঠিক কিনা যাছাই করতে বিআরটিএর কাছে চিঠি দিলে তারা লিখিতভাবে জানান, টমটম-সদৃশ এসব টেম্পোর রেজিস্ট্রেশন তাঁরা দিয়েছেন। বাস্তবতা হচ্ছে গাড়িগুলোকে টেম্পো বলা হলেও তা সঠিক নয়।
মূল সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ টমটম চলাচল বন্ধ করে দেয়া হলে ‘টেম্পো’ নাম দিয়ে একই ধরনের গাড়ি রেজিস্ট্রেশন দিয়ে বৈধতা দিয়েছে বিআরটিএ। চারটি সংগঠনের প্রায় চারশ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দিয়েছে বিআরটিএ।
বিআরটিএ-এর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘টমটম, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করতেই বিকল্প হিসেবেই কয়েকমাস আগেই গ্যাসচালিত টেম্পো (টমটমের অনুরূপ) নামক এই যানবাহন রাস্তায় নামানো হয়েছে, যা পরীক্ষিত ও সরকার অনুমোদিত। তবে এই যানবাহন চলাচলে কিছু নিয়ম নির্ধারণ করেছে বিআরটিএ।
এরমধ্যে ভারী যানবাহন চলাচল করে এমন কোনো রাস্তায় এই যান চলাচল করতে পারবে না। শুধুমাত্র ছোট রাস্তায় এই টেম্পো চলাচলের উপযোগী।’ ব্যক্তি মালিকানাধীন কিছু গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়েছে।
উপ-পরিচালক শহীদুল্লাহ বলেন, নগরীর প্রধান সড়কে জরিপের কাজ করছে বিআরটিএ। যেখানে বাস চলাচল করে না সেখানে এসব টমটম-সদৃশ এসব টেম্পো চলাচল করবে। মূল সড়কে সীমিত আকারে চলাচল করতে কিছু গাড়ির অনুমোদন দেয়া হবে।
বিআরটিএ কর্মকর্তার দাবি, তিন চাকার এই যানটি রাস্তায় চলাচলের জন্য বিআরটিএ অনুমোদন দিয়েছে। শর্ত হচ্ছে : মূল সড়কের (বড় রাস্তার) পরিবর্তে চলাচল করতে পারবে শুধু ছোট ও কম ব্যস্ত রাস্তায়। কিন্তু টমটম-সদৃশ ‘টেম্পো’ নামের এই যানবাহনটি অবাধে চলাচল করছে ভিআইপি সড়কে। নগরীর মূল সড়কে এই ধরণের ছোট যানবাহন চলাচল করলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ।
ডিসি ট্রাফিকের দাবি, চীন থেকে আনা হচ্ছে এসব গাড়ি। আমদানিকারকের সাথে বিআরটিএ কর্মকর্তাদের সম্পর্ক রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ একটি প্যাকেজে গাড়িগুলো বিক্রি করেন আমদানিকারকরা। তারাই চালকদেরকে অভয় দিয়েছে রেজিস্ট্রেশন নম্বর যেহেতু আছে সুতরাং আইনগত কোনো ঝামেলা নেই। তাই দিন দিন রেজিস্ট্রেশন নম্বরযুক্ত টমটমের সংখ্যা বাড়ছে।
নগরীর ব্যস্ততম সড়ক হিসাবে পরিচিত ইপিজেড মোড় থেকে পতেঙ্গা হয়ে বিমান বন্দর পর্যন্ত ভিআইপি সড়ক হিসেবেই পরিচিত। লোকাল এবং গণপরিবহনের তুলনায় এই সড়কে চলাচলকারী ভারী যানবাহনের সংখ্যাই বেশি। যার মধ্যে রয়েছে পণ্যবোঝাই ট্রাক, লরি ও পিকআপ। তবে এর মাঝেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে চলছে এই টেম্পোগুলো। দু’পাশের সড়কের একাংশ দখল করে চলছে যাত্রী উঠানামার কাজ। আর পিছনে দীর্ঘ যানযট। এর মাঝে মাঝে দু’একটি অবৈধ টমটমের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
জানা যায়, বিআরটিএর রেজিস্ট্রেশন পেয়ে দৌরাত্ম্য আরো বেড়েছে টমটমের। ইপিজেড মোড়ে বসানো হয়েছে কাউন্টার বক্স। ইপিজেড থেকে পতেঙ্গা রুটে চলাচল করছে প্রায় চার শতাধিক টমটম (বিআরটিএর দাবি টেম্পো)।
স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইপিজেড মোড় দখলে নিয়েছে টমটম। যেখানে ইচ্ছে সেখানে থামিয়ে যাত্রী উঠানামা করে গাড়িগুলোতে। এতে যানযটের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এসব গাড়ির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই ট্রাফিক বিভাগের।
৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন জানান, ভিআইপি সড়কে টমটম চলাচল বন্ধ করে দিয়ে একই ধরনের গাড়ি নামানো হয়েছে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লাগিয়ে। দিনদিন এ গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। ইপিজেড মোড়ে বসানো হয়েছে কাউন্টার বক্স। ইপিজেড থেকে পতেঙ্গা রুটে গাড়িগুলো দিব্যি চলাচল করছে। রেজিস্ট্রেশন থাকায় গাড়িগুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাও নেয়া যাচ্ছে না।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

