
বিশেষ প্রতিবেদক :: কুমিল্লা শহরের চৌদ্দগ্রামের ৪ নম্বর শ্রীপুর ইউনিয়নের বিতরছড় গ্রামের ৯ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রীকে গোপনে বাল্য বিবাহ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নুরজাহান আকতার খুকি নামে ৯ম শ্রেনীর ছাএীর আত্মহত্যার হুমকিতে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এ দিকে বাল্য বিবাহের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য চৌদ্দগ্রামে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ জানিয়ে ও কোন প্রতিকার পায়নি বলে জানান ছাত্রীর এক আত্বীয়।
ঘটনার অভিযোগে জানা গেছে, কুমিল্লা শহরের চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজারের বিতরছড়া গ্রামের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী নুরজাহান খুকীকে একই গ্রামের প্রবাসী এক বয়স্ক ছেলের সাথে জোরপূর্বক বাল্য বিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করছে মেয়েটির পরিবার। এতে বালিকা মেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিলে এলাকায় টক অব দ্যা ভিলিজে পরিণত হয়।
জানা যায়, নুরজাহান চট্রগ্রাম জেলার বলুয়ারদিঘী সিটি কর্রপোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বানিজ্য শাখায় ৯ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছাত্রী। ব্যবসায়ি বাবা খোকন আলী প্রবাসী ছেলে পেয়ে অর্থের লোভে বালিকা মেয়েকে জোর পুর্বক বিয়ে দেবার চাপ দেয়। এতে মেয়েটা হুমকি দিলে কৌশলে মেয়েটিকে বর্তমানে চট্রগ্রাম শহর থেকে কুমিল্লার চৌদ্দ গ্রামে নিজ বাসায় নিয়ে আসে। একই গ্রামের শিক্ষক সরোয়ার জানান, বর্তমানে নুরজাহানকে জোরপুর্বক বিয়ের আসরে বসিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে পরিবার।
আমাদের প্রতিবেদক ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে চট্রগ্রাম বলুয়ারদিঘী সিটি কর্রপোরেশন বালিকা স্কুলে যোগাযোগ করলে, নাম প্রকাশ না করা এক সহকারি শিক্ষক জানান, নুরজাহান আক্তার খুকি তাদের স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। এ বছরে সে ৯ম শ্রেণী পাশ করেছে মাত্র। বর্তমানে দশম শ্রেণীতে অধ্যয়ন করছে, তার রোল নং ৩২। স্কুলের ভর্তি রেজিষ্টার মতে তার জন্ম তারিখ উল্লেখ আছে ২৭/০৩/২০০৩ ইংরেজী। সে হিসাবে তার বয়স মাত্র ১৪বছর।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওই ছাত্রীর পরিবার জোরপূর্বক স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীকে বাল্য বিবাহ দিতে চেষ্টা করছে। এলাকার অনেক গন্যমান্য ব্যক্তিকে মেয়ের প্রভাবশালী আত্বীয় স্বজন বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়ায় তারা স্থানীয় প্রশাসনের আশ্রয় নিতে পারছেনা বলেও জানান।
এদিকে নিজ পরিবার কর্তৃক স্কুল ছাত্রীকে বাল্য বিবাহে চাপ প্রয়োগের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বাল্য বিয়ের সাথে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন। প্রশাসন অতিসত্বর ব্যাবস্থা না নিলে, আজকাল বিবাহ পরিয়ে দেবে বলেও জানান স্থানীয় জনগণ।
এ বিষয়ে কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার ফোনে একাধিক বার কল করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
উপজেলার এক সরকারী কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে জানান, স্কুল ছাত্রীর গোপনে বাল্য বিবাহ অবশ্যই বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post
