চট্টগ্রাম :: জমকালো অনুষ্ঠান করে মন্ত্রী দিয়ে উদ্বোধন করা হয়েছে প্রায় এক বছর আগে। এটি ৪৬ কোটি টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে আরো আগে। কিন্তু নির্মাণের প্রায় দুই বছর হতে চললেও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বহুল প্রত্যাশিত কারশেড ও অ্যাকশন শেডটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। পাঁচ একর জায়গার উপর নির্মিত অত্যাধুনিক কারশেডটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা না করায় শেডটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে গাড়ি আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাদের কিছু করার নেই। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিষয়টি আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। শীঘ্রই কিছু একটা হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরে গাড়ি রাখার আধুনিক কোনো ব্যবস্থা নেই। আমদানিকৃত গাড়ি খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়ি। যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ নিত্যদিনের। গাড়ি আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে অত্যাধুনিক একটি কারশেড নির্মাণ এবং তাতে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছিল বহু আগ থেকে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর স্টেডিয়ামের বিপরীতে রাস্তার পাশে পাঁচ একর জায়গার উপর নতুন একটি কারশেড এবং অ্যাকশন শেড নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্টিল স্ট্রাকচারের প্রায় দুই লাখ বর্গফুট জায়গায় কারশেডটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারশেডে ১০ সারিতে গাড়ি রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এরমধ্যে আটটি সারিতে ১শ’ করে ৮শ’ গাড়ি এবং অপর দুই সারিতে ৫০ করে ১শ’ গাড়ি রাখার স্থান তৈরি করা হয়েছে। সর্বমোট ৯০০ গাড়ি রাখার এই কারশেডটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে।
পরবর্তীতে কারশেডের প্রবেশ পথের দুইশ’ মিটার রাস্তা নিয়ে একটি সংকট তৈরি হয়। রেলওয়ের জায়গার উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণে অনুমোদন জোগাড়ের জন্যও সময় লাগে। ইতিমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিদেশ থেকে কার কেরিয়ারও আমদানি করেছে। জাহাজ থেকে নামা গাড়িগুলোকে কার কেরিয়ারে করে শেডে নিয়ে যাওয়া হবে। সব ব্যবস্থা পাকা করে নির্মাণের প্রায় এক বছর পর নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহাজান খান কারশেডটি উদ্বোধন করেন।
গত বছরের ৭ মে কারশেডটি উদ্বোধনের পর এটি পুরোদমে চালু করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় এক বছর গত হতে চললেও কারশেডটি অব্যবহৃতই পড়ে রয়েছে। বন্দরের একটি সূত্র জানিয়েছে, কারশেডটি উদ্বোধনের পর এটিতে গাড়ি রাখার পুরোপুরি ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা না করায় এখানে আমদানিকৃত কোনো গাড়ি রাখা যাচ্ছে না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা করলে আজ থেকেই গাড়ি রাখা সম্ভব বলেও ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা এই প্রসঙ্গে বলেন, বন্ডেড এরিয়া ঘোষণার সাথে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব জড়িত। কাস্টমস কমিশনার ইচ্ছে করলেই কোনো জায়গাকে বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা করতে পারেন না। এজন্য নানা আনুষ্ঠানিকতা এবং প্রক্রিয়া রয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষেই কেবল বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা করা যাবে। বন্ডেড এরিয়া ঘোষণার পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ওখানকার জন্য লোকবল নিয়োগ দেয়া হবে।
তিনি বলেন, বন্দরের কারশেডকে বন্ডেড এরিয়া ঘোষণার ফাইলটি বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে বন্ডেড এরিয়া ঘোষিত হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ জাফর আলম বলেন, কারশেডটি আমরা তৈরি করেছি। কিন্তু বন্ডেড এরিয়া ঘোষণার মালিক কাস্টমস। আমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্ডেড এরিয়া ঘোষণা করলেই আমদানিকারকেরা সেখানে গাড়ি রাখতে পারবে। বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
কারশেড চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত গাড়িগুলো অনেক বেশি সুরক্ষা পাবে বলে উল্লেখ করে গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান জানান, আমাদের আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার গাড়ি বন্দরের অভ্যন্তরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকে। খুব সামান্য সংখ্যক গাড়ি ওখানকার শেডে রাখার সুযোগ রয়েছে। বন্দরের নয়া এই কারশেড চালু হলে নয়শ গাড়ি শেডের ভিতরে নিরাপত্তা পাবে। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই জরুরি। তিনি আরো বলেন, আমরা বন্দর এবং কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এবং কাস্টমসের কমিশনার মহোদয় আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, কয়েকদিনের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা হয়ে যাবে। আগামী মাসের মধ্যেই বন্দরের কার শেডে গাড়ি রাখা যেতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

