চট্টগ্রামে মাদরাসা ছাত্রের কাঁথা মোড়ানো মরদহে উদ্ধার

আপডেট: ৮ মার্চ ২০১৭ ১১:০২ পূর্বাহ্ন

murder

চট্টগ্রাম :: নগরীর খুলশী থানার সেগুনবাগান তা’লিমুল কোরআন মাদরাসায় কমপ্লেক্সে কাঁথা মোড়ানোবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইসমাম হায়দার (৮) নামে এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এঘটনায় এলাকাবাসী মাদরাসা ঘেরাও করে বিক্ষোভ এবং ভাঙচুরের চালায়।

নিহত ইসমাম বাঁশখালী উপজেলার চানপুর পশ্চিম নাকমোড়ার নাজিম উদ্দিনের ছোট ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বাকলিয়া থানার দেওয়ানবাজার মাদরাসা ভবন এলাকার ইলিয়াস সাহেবের বিল্ডিংয়ে ভাড়া থাকে। তারা চার ভাই। সে সবার ছোট। দুই বছর আগে কোরআনে হাফেজ হওয়া ইচ্ছে নিয়ে এ মাদরাসায় ভর্তি করায় অভিভাবকরা। শিশুটি দুই পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল।

এটিকে হত্যা দাবি করে এলাকার লোকজন মাদরাসাটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং ভাঙচুরের চালায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষকদের ফাঁসি দাবি করে মধ্যরাত পর্যন্ত এলাকার লোকজন শ্লোগান দিয়ে মাদ্রাসাটি ঘেরাও করে রাখে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে নিহতের স্বজনরা মাদরাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। এর আগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ইসমামের পরিবারকে জানায় সে নিখোঁজ। তবে তারা এসে মাদরাসায় তল্লাশি চালিয়ে বিছানার নিচ থেকে ইসমামের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ‍যায়।

রাত দেড়টার সময় ঘটনাস্থল থেকে খুলশী থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন জানান, শিশুটি কিভাবে মারা গেছে তা আমরা বলতে পারছি না। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ মাদরাসায় যায়। তবে লাশ উদ্ধার করেছি হলিক্রিসেন্ট হাসপাতাল থেকে। এলাকাবাসী এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে রাতে বিছানায় কাঁথা মোড়ানোবস্থায় ইসমামের মৃত্যু হয়েছে। তাকে নির্যাতন করে কাঁথা মুড়িয়ে রাখা হয় বলে দাবি করছে এলাকার লোকজন।

ওসি আরও জানান, লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

স্থানীরা জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরই শত শত এলাকাবাসী মাদরাসা ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। অবস্থার বেগতিক দেখে মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে যায় সকল শিক্ষক-কর্মচারি।

মাদরাসার ভেতর ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। ঘটনার পর থেকেই ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী জড়ো হয়ে অবস্থান নেয় মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে। এক পর্যায়ে রাত ১০টার দিকে এলাকাবাসী হামলা করে মাদরাসায়। ভেতর থেকে বন্ধ থাকা মূল গেট ভেঙে ভেতর ঢুকে পড়ে। এসময় তারা সেখানে ভাঙচুর চালায়। পরে রাত ১১ টার দিকে খুলশী থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post