সাইফুদ্দীন মোহাম্মদ মামুন, টেকনাফ :: কক্সবাজারের টেকনাফ সড়ক লবণের পানিতে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ট্রাকের গলিত লবণাক্ত পানি সীমান্তের প্রধান সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় চলাচলের অনোপযোগী হয়ে পড়ছে।
এতে করে এই রোড়ে প্রতিনিয়ত সড়ক দূঘর্টনাও বাড়ছে। খোলা ট্রাকে লবণ পরিবহনে এক ধরণের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও লবণ ব্যবসায়ী-পরিবহন সংশ্লিষ্ট তা কিছুতেই মানছে না।
এদিকে কাভার্ডভ্যান এবং পানি চষে না পড়ার মত করে লবণ পরিবহনের নির্দেশনা টেকনাফে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। লবণ পরিববহণ এবং তৎসংশ্লিষ্ট নীতিমালা না থাকায় কতিপয় সুবিধাভোগী লাভবান হলেও জনসাধারণের চরম ক্ষতি হচ্ছে। লবণের ট্রাক থেকে গলিত খরা পানি টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের স্থায়িত্ব দিন দিন নষ্ট করে দিচ্ছে।
সরেজমিন ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, পালংখালী, বালুখালী, কুতুপালং, থাইংখালী, উখিয়া ষ্টেশন, কোটবাজার, মরিচ্যা ও হোয়াইক্যংয়ের নয়াবাজার, কাঞ্জরপাড়া, হ্নীলার রঙ্গিখালী, আলীখালী, নাটমুরা পাড়া, উলুচামরী, মোচনী, জাদীমুরা, টেকনাফ, সাবরাং, নয়াপাড়া এলাকায় সড়কের উপর ট্র্রাক রেখে লবণ লোড করা হচ্ছে। সকাল থেকে বিকাল দীর্ঘ সময় প্রতিদিন ডজন ডজন ট্রাক লবণ ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে দাঁড় করিয়ে রাখাতে যাত্রীবাহী গাড়ী চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্দর থেকে ছাড়া পযর্টকবাহী গাড়ীসহ অন্যান্য গাড়ী চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব সড়কের উপর বড় বড় লবণের ট্রাক রেখে লোড করার সময় পথ যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বাক বিতন্ডা লেগে থাকে। কেউ কিছু বললে লবণ ব্যবসায়ীর নামে অসাধুরা বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি প্রদান করে। উল্টো পথচারীদের উপর বিপদ নেমে আসে।
সচেতনমহল মনে করছেন, লবণ ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত সড়কের বারটা বাজাচ্ছে। ট্রাক এবং রোড় ক্যাপাসিটির বাইরে এসব ব্যবসায়ীরা কৌশলে প্রচুর পরিমাণে লবণ লোড করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালান করছে। জরুরী ভিত্তিতে সড়কের উপর অনিয়ন্ত্রিত গাড়ী পাকিং করে লবণ লোড বন্ধ করতে অসাধু এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল জরুরী ভিত্তিতে লাভের বিপরীত ক্ষতির দিক বিবেচনায় খোলা ট্রাকে লবণ পরিবহন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট নীতিমালা প্রণয়নের জোর দাবী জানিয়েছেন।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

