চট্টগ্রাম :: গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের দৈনিক সাঙ্গু’র নিজস্ব প্রতিবেদক সাংবাদিক নুরুল আলম চৌধুরীর উপর হামলাকারী, লালখান বাজারের ত্রাস, চিহ্নিত অপরাধী মো. জাহেদকে সাংবাদিক নির্যাতনের মামলা ও ধর্ষণে অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সে লালখান বাজারের কথিত আওয়ামী লীগ নেতা সন্ত্রাসী মদদদাতা মাহবুবের ছেলে। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ২নং আসামি সে। ওই মামলায় তাকে শনিবার গ্রেফতার করে কোর্টে চালান দেয়া হয়।
অন্যদিকে ২ ফেব্রুয়ারি দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রাম ও দৈনিক সাঙ্গুর প্রথম পাতায় প্রকাশিত ‘নগরীতে ১৩ বছরের স্কুল ছাত্রীকে ১২ জনের গণধর্ষণ’ শীর্ষক সংবাদের প্রেক্ষিতে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়ে আজ শনিবার নগরীর কদমতলী থেকে গণধর্ষণের শিকার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে খুলশী থানা পুলিশ। উদ্ধারকালে দৈনিক প্রিয় চট্টগ্রামের এই প্রতিবেদকও উপস্থিত ছিলেন। ধর্ষিত কিশোরীকে উদ্ধারের পর তাকে নিয়ে আসামিদের চিহ্নিত করতে অভিযানে নামে পুলিশ। এতে এই কিশোরী লালখান বাজারের মতিঝর্ণার কথিত যুবলীগ নেতা ও চিহ্নিত অপরাধী মো. জাহেদসহ ৩ জনকে সনাক্ত করেছে। ফলে ধর্ষণের মূল হোতা জাহেদসহ ৩ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক নির্যাতনের মামলায় জামিন চাইলে আদালত তা না মঞ্জুর করে আসামি জাহেদকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
ধর্ষিত কিশোরী, তার পরিবার ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকার মৃত সোলেমানের কলোনীর ভাড়াটিয়া রিক্সাচালক জামালের কিশোরী মেয়ে কান্না (ছদ্মনাম) কে বাড়িওয়ালার মেজো ছেলে আমজাদ হোসেন বক্কর প্রকাশ বক্কা মতিঝর্ণাস্থ সাত্তার রনির মার পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ৯ জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে যাওয়া এই কিশোরীর চিকিৎসা তো দূরের কথা, ধর্ষণের বিষয়ে যাতে কাউকে না জানানো হয় সেজন্য তার পরিবারকে হুমকি দেয়া হয়। দুইদিন ধর্ষিত কিশোরী ‘কান্না’ খাবার পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারেনি।
বিষয়টি কিশোরীর পরিবার বাড়িওয়ালাকে জানালে ধর্ষণকারী বক্করের ভাই জামাল, আলাউদ্দিনের বউ পাখি, সন্ত্রাসী যুবলীগ ক্যাডার জাহেদ, জাহেদের মা হোসনে আরা বেবি, ধর্ষণের তথ্য গোপন ও অপরাধীদের সহযোগিতাকারী আ’লীগ নেতা ও সন্ত্রাসী জাহেদের বাবা মাহাবুবের বোন মমতাজ কিশোরী ‘কান্না’ ও তার পরিবারকে ভয়াবহভাবে হুমকি দেয়।
এসময়ে ধর্ষণকারী জাহেদসহ বাকি ৮ ধর্ষককে জাহেদ’র ঘরে এনে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৫ হাজার করে টাকা নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার কৌশল নেয়। এই শালিসের বিচারক ও সিদ্ধান্ত দেন মাদক, পতিতা ব্যবসায়ী ও জঙ্গি মদদদাতা মাহাবুব।
পরের দিন ৩১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৭ টার দিকে হঠাৎ করেই বাড়িওয়ালা জামাল, জাহেদ, বক্কা এসে তাদেরকে দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়। এসময় রান্না করা ভাতও খেতে দেয়া হয়নি তাদের। মাত্র আাধা ঘন্টা সময়ের মধ্যে তাদেরকে সরাসরি জমিদার জামাল ও জাহিদের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ধর্ষিত কিশোরী মেয়েসহ তার পরিবারকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায় ট্রেনে তুলে দিতে।
কিন্তু এভাবে সবকিছু ফেলে যেতে চায়নি কিশোরীর পরিবার। জামাল ও অপরাপর সন্ত্রাসীরা তাদের ট্রেনে তুলে দিয়ে চলে গেলে আবার নেমে পড়ে পরিবারটি। সারারাত স্টেশনেই কাটায় তারা। পরের দিন জাহেদ তাদের চট্টগ্রামে থেকে যাওয়ার সংবাদ পেয়ে ধর্ষিত কিশোরীকে মতিঝর্ণায় নিয়ে যেতে লোক পাঠায় এবং নিজেও বার বার ভয় দেখায়। তার পরিবারের দাবি, হয়তো জাহেদ ‘কান্না’কে এলাকায় নিতে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল।
জানা গেছে, এই গণধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ধর্ষক জাহেদসহ তার বাহিনীর যারা ধর্ষণকারী তারা অনেক চেষ্টা করেছে। তারা ধর্ষিত কিশোরীর পরিবারকে এই বলে বোঝাতে চেয়েছিল যে, ধর্ষক সবাই ১৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা দিলে কিশোরীর পরিবার যাতে গ্রামে গিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিতে পারে। এটি বাধ্য হয়েই মেনে নিয়েছিল কিশোরীর পরিবার। কিন্তু দিচ্ছি, দিবো বলে ঘুরাচ্ছিল তারা। এক পর্যায়ে জাহেদের মা স্থানীয় পতিতা ব্যবসায়ী হোসনে আরা বেবি ঘরে এসে তাদের পরিবারকে হুমকি দেয়।
এদিকে মূল ধর্ষক গ্রেফতার হওয়ায় স্বস্তি ফেলেছেন লালখান বাজারের মতিঝর্ণা এলাকার মানুষ। তারা বলেন, এখানে তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারতো না। জাহেদসহ তার পুরো পরিবারই সন্ত্রাসী।
এছাড়াও তার ভাই তৈয়ব ও বাবুও বড় সন্ত্রাসী। তার মা হোসনে আরা বেবি ও বোন শিউলী এলাকায় পতিতা ব্যবসা ও মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত। সন্ত্রাসী জাহেদ এর আগেও একাধিক ধর্ষণ করেছে। কিন্তু তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে তারা মুখ বুঝে সহ্য করেছেন। তার কাছে ধর্ষিত অনেক মেয়েই এখনো মতিঝর্ণায় বসবাস করে, কিন্তু তারা প্রতিবাদের সাহস পায়নি। জাহেদ বাহিনীকে মদদ ও পৃষ্টপোষক করে তার বাবা, জঙ্গি মদদদাতা, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্য মাহাবুব ও স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতারা।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

