নিধন নয়, কুকুর বন্ধ্যাত্নকরণের পক্ষে মাঠে চার সংগঠন

আপডেট: ৩০ জানুয়ারী ২০১৭ ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন

Ctg-pic

চট্টগ্রাম :: নগরীতে কুকুর হত্যা বা নিধন নয়, জন্ম নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ্যাত্নকরণের পক্ষে মাঠে নেমেছে ৪ স্বেচ্ছাসেবি সংগঠন। সংগঠনের নেতারা এ নিয়ে জনমত ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

সংগঠন চারটি হচ্ছে, রাইজ ফর প্লু, ক্যাটস অ্যান্ড ডগস লাভার চট্টগ্রাম, এএলবি এ্যানিমেল শেল্টার এবং এইউবি। সংগঠন চারটি প্রথমবারের মতো প্ল্যাকার্ড বহন ও প্রচারপত্র বিলির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এতে কুকুর হত্যা বা নিধনে হাইকোর্টের আইন মেনে চলার আহবান জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা।

রাইজ ফর প্লু‘র সভাপতি তৃষা ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, কুকুর হত্যা না করার জন্য হাইকোর্টের রায় আছে। হত্যা বা নিধনের এর পরিবের্ত কুকুরের জন্ম নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ্যাত্বকরণ করা যেতে পারে। এছাড়া ১৯২০ সালের এনিমেল ক্রুয়েলটি আইন সংশোধনের জন্যও দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নগরীর ৪১ ওয়ার্ডেও বিভিন্ন স্থানে বিষ ছিটিয়ে কুকুর হত্যা করা হচ্ছে। গণহারে কুকুর হত্যার কাজে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে। কুকুর হত্যার পর ডাস্টবিন বক্সের কাছে অথবা ময়লা-আবর্জনার মধ্যে ফেলে রাখা হচ্ছে মৃত কুকুরগুলো। চসিকের সেবক দল ট্রাকে করে ডা¤প করছে কুকুরগুলোকে।

প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত ২১ জানুয়ারি নগরীর আন্দরকিল্লা-চকবাজার রোডের ঘাট ফরহারবেগে ১৫-১৬টি কুকুর মেরে ভ্যান গাড়িতে তুলতে দেখা গেছে। তাদেরকে আমরা এর কারণ জিজ্ঞ্যেস করলে তারা স্যারের সাথে কথা বলতে বলেন। আমরা তাদের স্যার কাউন্সিলর হাসান মাহমুদ হাসনীর কাছে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন পাত্তাই দেননি। হাসান মাহমুদ হাসনীর জানান, তার কাছে নাকি কুকুর হত্যার জন্য অনেক আবেদন পড়েছে।

তবে কুকুর হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জামাল খান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের উত্তরোত্তর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে বেশ কিছু মহল সুকৌশলে বিভিন্ন বানোয়াট বিষয়কে ইস্যু বানিয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে।

তিনি বলেন, আদালতের রায়ের বিপক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কখনোই যায়নি বরং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অথচ এই সিটি করপোরেশনকে বিতর্কিত করতে মানবিক একটি ইস্যুকে তুলে ধরে বিতর্কিত করার হীন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ক্যাটস এন্ড ডগ্স লাভার, চট্টগ্রাম এর সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম বলেন, পশুরও প্রাণ আছে, অনুভুতি আছে। তাই প্রাণে হত্যা নয়। বিকল্প ব্যবস্থাও যখন হাতের নাগালে তাতে কুকুর নিধন কেন? বরং বন্ধ্যাতœকরণ করা হলে কুকুরের সংখ্যা বাড়বে না। হত্যার পরও যেখানে কুকুর বাড়ে সেখানে আর হত্যা নয়।

তিনি বলেন, কুকুর হত্যা বা নিধনে যে পরিমান ব্যয় হয়। বন্ধ্যাত্বকরণে ব্যয় আরও কম হবে। কম সময়ে কমে আসবে কুকুরের উৎপাত।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post