সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দেড় মাসে নিহত ২০, আহত শতাধিক

আপডেট: ২৭ জানুয়ারী ২০১৭ ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন

accedent

চট্টগ্রাম :: সেইফ লাইনের চালক খুব বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। চালকের পাশের সিটে বসা আমরা দুই মহিলা যাত্রী তাকে বারবার অনুরোধ করছিলাম গতি কমিয়ে ধীরে চলার জন্য। কিন্তু ১৬-১৭ বছর বয়সী গাড়িচালক কোনো কথা শুনতে রাজি নয়। সে তার ইচ্ছেমতোই দ্রুত গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল। এতে দুর্ঘটনায় গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হলাম আমি ও আমার সহযাত্রী মনোয়ারা বেগমসহ (৩৫) গাড়িতে থাকা সবাই। আমার মাথাও দারুণভাবে ফেটে গেল। শেষে মাথায় ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। চালকের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের স্বীকার হয়ে এখনো ব্যাথায় কষ্ট পাচ্ছি আমি। কথাগুলো বলছিলেন এনজিও ব্র্যাকের শিক্ষা প্রোগ্রামের কর্মী পূর্নিমা দে (৩৪)।

চট্টগ্রামের পটিয়ার সজল মিত্রের স্ত্রী পূর্নিমা চাকরির সুবাদে থাকেন সীতাকুণ্ড পৌরসদরের বড়বাজার এলাকায় প্রদীপ চৌধুরীর বাসায়। গত ১ জানুয়ারি লোকাল সেইফ লাইনে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারি বই নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার স্বীকার হন তিনি। এ ঘটনায় মাথা ছাড়াও পা ও গোড়ালিতে মারাত্মক জখম হয় তার।

পূর্নিমা বলেন, গাড়িতে থাকা চালক ও হেল্পার ছাড়া সবাই ছিল ব্র্যাক কর্মী। ওই দুর্ঘটনায় আমার পাশের সিটে বসা ব্র্যাক কর্মী মনোয়ারা বেগম, ভেতরের সিটে বসা জমির (৪০) ও মনির (৪৫) এবং চালক, হেল্পার সবাই আহত হয়েছিল। মনোয়ারা দুদিন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার পর রিলিজ পেলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

এ দিকে শুধু এই দিনই নয়, নামে ‘সেইফ লাইন’ হলেও ইতোমধ্যে সীতাকুণ্ডের সবচেয়ে অনিরাপদ এই লোকাল গাড়িতে প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। গতকাল সোমবার বিকেলেও উপজেলার বাড়বকুণ্ড পিএইচপি ফ্লোট গ্লাসের সামনে চট্টগ্রামমুখী একটি সেইফ লাইন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের উপরে উল্টে গেলে কমপক্ষে ১৫-১৬ যাত্রী আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। যাত্রী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলাটি বন্দর নগরী চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত হওয়ায় এলাকাটি খুবই ব্যস্ত।

এখানে যানবাহনের চাপ মহাসড়কের অন্য অংশের তুলনায় কিছুটা বেশিই থাকে। ফলে গাড়ি খুব সাবধানে না চালালে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

থানা, হাইওয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্য অনুসারে গত দেড় মাসেই মহাসড়কের সীতাকুন্ড অংশে ৩২টি দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেইফ লাইন উল্টে, ট্রাকের সংঘর্ষ ও বেপরোয়া গাড়ি চাপায়। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে দ্রুতগতির গাড়ির নিচে চাপা পড়ে।

সীতাকুণ্ডের বারোআউলিয়া হাইওয়ে থানার ওসি মো. ছালে আহমেদ পাঠান বলেন, গাড়ি চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণেই বেশির ভাগ দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা যখন অতিরিক্ত গতিতে চলতে দেখি বা আইন অমান্য করতে দেখি তখন মামলা দেই। কিন্তু তারা মামলা শেষ করে আবারো একই নিয়মে চলে।

সিটিজিসান.কম/রবি

Print This Post Print This Post