অনলাইন ডেস্ক :: চ্যাটিংয়ের সময় ইসরায়েলি সেনার কাছে পাঠানো ছবি ও প্রেমের বার্তা। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে গোপন তথ্য জানার চেষ্টা করছে ফিলিস্তিনের কট্টরপন্থী সংগঠন হামাসের যোদ্ধারা। আর ইসরায়েলি সেনারাও হামাসের পেতে রাখা ফাঁদ—প্রেমের ডাকে সাড়া দিচ্ছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হামাসের যোদ্ধারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তরুণীদের ছবি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। তারা হামাসের গুপ্তচর। ইসরায়েলি সেনাদের মোবাইল ফোন হ্যাক করেই তারা এই কাজটি করছে। হামাসের এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, হামাস যোদ্ধারা ভুয়া পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। মোবাইল ফোনে একটি অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করার কথা বলে অসংখ্য সেনাসদস্যের মোবাইল ফোন, ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাও করেছে তারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওই কর্মকর্তা বলেন, এভাবে হামাস যোদ্ধারা এখনো গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য জানতে পারেনি।
তারা হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজা এলাকায় কেবল ইসরায়েলি সেনাদের কৌশল, শক্তি ও অস্ত্রের ব্যাপারে তথ্য জানার চেষ্টা করেছিল। সত্যিকারের কোনো তরুণীর ছবি তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবহার করছে। হয়তো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে থাকা সেই তরুণীদের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেই তারা এই কাজটি করছে।
গতকাল বুধবার ইসরায়েলি ওই সেনা কর্মকর্তা বিবিসিকে হামাস যোদ্ধাদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবহার করা কিছু ছবি ও ইসরায়েলি সেনাদের কাছে পাঠানো ভুয়া প্রেমের বার্তা দেখিয়েছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনাদের কাছে পাঠানো প্রেমের বার্তায় এক হামাস যোদ্ধা বলেছেন, ‘প্রিয়, এক সেকেন্ড অপেক্ষা করো। আমি তোমাকে একটি ছবি পাঠাচ্ছি।’ ওই সুন্দরী তরুণীর ছবি আসার আগেই এর জবাবে ইসরায়েলি সেনা বলেছেন, ‘ওকে। হা-হা।’ ছবি পাঠানোর পরেই হামাসের ওই যোদ্ধা ভিডিও চ্যাট করার জন্য মোবাইল ফোনে ছোট্ট একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করার জন্য পরামর্শ দেন।
তিনি জানান, ওই অ্যাপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করলেই দুজনে মিলে ভিডিও চ্যাট করা যাবে। কিন্তু মূল বিষয়টি হলো, ওই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই ইসরায়েলি সেনার স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে ছদ্মবেশধারী হামাসের ওই যোদ্ধা।
সেনাদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যাপারটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্য সুরক্ষা বিভাগের কাছে খোলাসা হয়ে গেছে। সেনাদের অভিযোগ, কিছু সন্দেহজনক তরুণী চ্যাটে কিছুক্ষণ কথা বলার পরই একটি অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে বলেন। এরপর তাঁরা চুপ হয়ে যান।
ইসরায়েলি ওই সেনা কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘দক্ষতার কারণে বিশাল ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত যা ক্ষতি হয়েছে, তা যৎসামান্য। কিন্তু আমরা এটা পুরোটাই প্রতিরোধ করব।’ এই অভিযোগের বিষয়ে হামাস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post

