
রাঙ্গুনিয়া করেসপন্ডেন্ট :: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর ইউনিয়নের চাঞ্চল্যকর নুরুল ইসলাম ওরফে নুরু (৩০) খুনের নেপথ্যের নায়ক তারই আপন দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে আটক করেছেন পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে।
সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মিতু হত্যাকান্ডের মূল হোতা মুসা’র সহযোগী দূর্ধর্ষ মোহাম্মদ আলীকে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ খুঁজছিলেন বলে থানা সুত্র জানায়।
গত বছরের ১৪ জানুয়ারি তারই ইন্ধনে আপন শালা নুরুল ইসলাম নুরুকে হত্যা করেন সতীর্থরা। এরপর পুলিশের অনুসন্ধান ও কিলিং অপারেশনে অংশ নেয়া তিন খুনী জামাল উদ্দিন, শামছুল আলম সানি ও মো. রুবেলের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে তার দুলাভাই মোহাম্মদ আলীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই সে গা ঢাকা দেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর এলাকায় কয়েকবছর আগে শালা-দুলাভাই মিলে গড়ে তুলেছিলেন একটি সশস্ত্র চাঁদাবাজ বাহিনী। ৭/৮ জনের এই গ্রুপে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অগ্রভাগে থাকতেন ইসলামপুর ইউনিয়নের মাইজ পাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মোনাফ প্রকাশ মনু মিয়ার ছেলে নুরুল ইসলাম নুরু। আর এ বাহিনীর মূল গডফাদার ছিলেন নুরুর বড় বোনের জামাই ও একই গ্রামের হাজী নাদেরুজ্জামান প্রকাশ নাদু হাজীর ছেলে মোহাম্মদ আলী। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে ব্যবহারের জন্য শালা নুরুকে ৯৫ হাজার টাকায় একটি বন্দুকও কিনে দেন দুলাভাই মো. আলী। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ও তার কাছে নুরুর জমা রাখা ১৪ লাখ টাকা মেরে দিতে সতীর্থদের মাধ্যমে সন্ত্রাসী নুরুকে খুনের পরিকল্পনা করেন মোহাম্মদ আলী। দিনে রাতে সরকার সংরক্ষিত বাগানের গাছ কেটে বিভিন্ন ইট ভাটায় জ্বালানি হিসেবে সরবরাহ করে তখন কয়েক বছরে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা আয় করেন এই সন্ত্রাসী গ্রুপটি।
এলাকার বিভিন্ন ইটভাটা ও প্রবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, সংরক্ষিত বনের গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া, মসজিদের মাইক ও দানবাক্সের টাকা লুট, এলাকার শতাধিক গরু চুরিসহ এহেন কোন অপরাধ নেই গত কয়েক বছরে তারা করেনি। এলাকার প্রভাবশালী নাদু হাজীর ছেলে মোহাম্মদ আলীই এসব অপরাধের মূল হোতা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. হুমায়ুন কবির শালার খুনী দুলাভাই মোহাম্মদ আলীকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিটিজিসান.কম/রবি
Print This Post
